মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ: গণতন্ত্রে ‘এয়ারপ্লেন মোড’
মো. মহসিন খান
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর মুহূর্তেই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়—অনেকে বলছেন, “ভোট কেন্দ্র তো আর পরমাণু স্থাপনা নয়, যে মোবাইল নিলেই বিপদ!” প্রশ্ন একটাই—আপনারা আসলে কী লুকাতে চান?
গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা যেখানে নির্বাচন কমিশনের, সেখানে তারা যেন উল্টো দিকেই হাঁটছে। যুগ প্রযুক্তির, তথ্য হাতের মুঠোয়—আর ঠিক সেই সময়েই সংবাদকর্মীদের হাত বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। যেন ক্যামেরায় ধরা পড়লে গণতন্ত্রের মুখোশ খুলে পড়ার ভয়! এর চেয়ে বড় ব্যঙ্গ আর কী হতে পারে?
ফেসবুকে কেউ লিখেছেন, “ভোটের দিন সাংবাদিকদের মোবাইল নিষিদ্ধ—পরের ধাপে হয়তো চোখও বন্ধ করে রাখতে হবে!” সরকার ও কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে—স্বচ্ছতা কি এখন রাষ্ট্রবিরোধী কাজ? সত্য তুলে ধরা কি এখন অপরাধ?
গোপনীয়তার নামে যে অস্বচ্ছতা তৈরি হচ্ছে, তা গণতন্ত্র নয়, বরং এক ধরনের ‘এয়ারপ্লেন মোড শাসন’—বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ, শুধু নিজের ইচ্ছামতো উড্ডয়ন।
নির্বাচন কমিশন বরাবরের মতো বলে যেতে পারে, “আমরা নিরপেক্ষ, আমরা নিয়ম করেছি সবার নিরাপত্তার জন্য।” কিন্তু নিরাপত্তা কার? ভোটারের, নাকি কারচুপির? সাংবাদিকরা যদি সত্য দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণ কীভাবে জানবে আসলে ভোটের দিনে কী ঘটছে?
গণতন্ত্রে আলো প্রয়োজন—অন্ধকার নয়। আর সাংবাদিকদের মোবাইল নিষিদ্ধ করা মানে সেই আলো নিভিয়ে দেওয়া। মানুষ আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকই প্রশ্ন তুলছে—এবার কি ভোটের বাক্সও ‘ফ্লাইট মোডে’ যাবে?
