আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে ৭ দিন

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

আর তিন দিন পর অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই ভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকে সারাদেশে সাত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা বহাল থাকবেন। তিন ধাপে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, আনসার, নৌবাহিনী, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে মোকাবিলা করতে সব জেলার পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই সারাদেশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়বে। বাড়বে টহল কার্যক্রম ও বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি। সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হচ্ছে বিজিবির নজরদারি। যাতে সীমান্ত দিয়ে কেউ অস্ত্র গোলাবারুদ ও মাদকের চালান দেশের ভেতর আনতে না পারে। গতকাল সারাদেশে পুলিশের পক্ষ থেকে এক হাজার ৫৭৩টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এসব চেকপোস্টে ২২ হাজার ৭৩৩টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি করা মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১৬টি। এর মধ্যে এক হাজার ৪২৪টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। এ ছাড়া এক হাজার ৪৫১টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি অপারেশনস মো. রেজাউল করিম

আমাদের সময়কে বলেন, ভোট উপলক্ষে আজ থেকে সারাদেশে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন হচ্ছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় টহলের পাশাপাশি অন্যান্য আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। কেউ ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হাতে মোকাবিলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো দল-মত দেখা হবে না।

জানা গেছে, যেসব ব্যক্তি শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য হুমকি তাদের আইনের আওতায় আনতে সারাদেশে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। পুলিশের বিশেষ শাখা এ সংক্রান্ত তালিকা করে ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠিয়েছে। ওই তালিকা ধরেই চলছে গ্রেপ্তার অভিযান কার্যক্রম।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রধারী, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং বিগত সময়ে যেসব ব্যক্তি মব সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদেরও ভোটের জন্য ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ভোট অনুষ্ঠানের আগেই তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র বলেছে, নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। এ ছাড়া বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় এক লাখ, র?্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ও ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কাজ করবেন।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। সারাদেশে ৪১১ উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ব্যবহার করতে ইতোমধ্যে পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা সারাদেশে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ড্রোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রস্তুতিও শেষ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই বিশেষ টিম ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। প্রস্তুত করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াডকে। এ ছাড়া ইন্টারনেটে অপতথ্য ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করতে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইসিটি বিভাগের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য