ডিজেল খালাসে দেরি, সরবরাহে বিঘ্ন

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের কারণে জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস করতে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ডিপোগুলোতেও ডিজেল সরবরাহে দেরি হচ্ছে। এদিকে, ডিপোগুলোতে ডিজেল সরবরাহে দেরি হওয়ার কারণে ডিপোগুলো থেকে ডিলাররা সময়মতো ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। সাময়িক এ সংকটকে ডিলাররা ডিজেল সংকট বলে অভিযোগ করলেও বিপিসি কোনো ডিজেল সংকট নেই বলে জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার সারাদেশে জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট দেখা দেয়। দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে তেল বিপণন ধীরগতির বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ডিপো থেকে তেলের ডিলাররা আমাদের সময়ে ফোন করে জানিয়েছেন কোনো কোনো ডিপোতে সকালে গাড়ি ঢুকলেও তেল দিতে সন্ধ?্যা করে ফেলছে। নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলের একজন তেলের ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার গাড়ি মেঘনা ডিপোতে সকালে ঢুকেছে তেল দিয়ে সন্ধ্যায় ছেড়েছে। তিনি বলেন, আমি জানতে চাইলে ডিপোর লোকজন বলেছে চট্টগ্রাম থেকে সময়মতো ডিজেলের জাহাজ আসেনি। ফলে ডিপোতে তেল কম ছিল। পরে নদীতে আসা জাহাজ থেকে ডিপোর ট্যাংকে তোলা হলে সেখান থেকে তেল গাড়িতে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. একেএম আজাদুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, সামান্য সংকট হলেও আমাদের এখানে বড় করে বলার চেষ্টা চলে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন চলায় তেল খালাস করতে একটু দেরি হয়েছে। সংকট তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু আমরা সংকট হতে দেইনি। আমরা সমুদ্র থেকে লাইটার জাহাজে করে তেল খালাস শুরু করে ডিপোগুলোতে পাঠাতে শুরু করেছি। তিনি বলেন, আশা করি কোনো সংকট হবে না। এ ছাড়া আরও তেলের জাহাজ সমুদ্রপথে রয়েছে।

প্রসঙ্গত দেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের জাহাজ সব সময় বিদেশ থেকে দেশের পথেই থাকে। কোনো কারণে তেল আমদানির সিডিউল সামান?্য হেরফের করলেই জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়।

এদিকে বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশে জ¦ালানি তেলের স্টোরের ক্যাপাসিটি এইএচএসডি (ডিজেল) ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ লিটার, এসকেও (সুপারিয়র কেরোসিন) ৩৬ হাজার ৯৪১ লিটার, এমএস (মোটর স্প্রিট পেট্রোল) ৩৭ হাজার ১৩ লিটার, এইচওবিসি (অকটেন) ৫৩ হাজার ৩৬১ লিটার, এফওএইচএস (ফার্নেস অয়েল) এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৯ লিটার, জেট ফুয়েল ৬৪ হাজার ১১৮ লিটার; অন্যদিকে অপরিশোধিত জ¦ালানি তেল ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পরিশোধিত হয় দুই লাখ ২৫ হাজার, কনডেনসেট পাঁচ হাজার ৬৯০ লিটার, নেপথা ২৮ হাজার ৮৪০ লিটার , অন্যান্য পণ্য এক লাখ ২১ হাজার ৪৫৪ লিটার। বিপিসি বলছে, সমুদ্রপথে হিসাবসহ দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুদ আছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫১৫ লিটার, কেরোসিন ১২ হাজার ৯৪০ লিটার , অকটেন ৫৪ হাজার ৭৫৮ লিটার, মোটর স্প্রিট পেট্রোল ২০ হাজার ৩০৬ লিটার, ফার্নেস অয়েল ৭৬ হাজার ৯৬৭ লিটার, জেট ফুয়েল এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৬ লিটার।

এদিকে বিপিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও সাড়ে চার লাখ লিটার ডিজেল খালাস হবে। কয়েকটি জাহাজে করে এসব ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেট ফুয়েল ও অকটেনের জাহাজও সমুদ্রে রয়েছে। ফলে সংকট হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য