অমানবিকতার এমন নজির সভ্য দুনিয়ায় বিরল
বশির আহমদ জুয়েল
বাগেরহাটে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের লাশ কারাগারের ফটকে এনে দেখানোর ঘটনাটি শুধু হৃদয়বিদারক নয়—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীর নৈরাজ্য, অদক্ষতা এবং মানবিক বোধের ভয়াবহ পতনের প্রতীক। এমন বর্বর আয়োজন কোনো সভ্য দেশে কল্পনাও করা যায় না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্পষ্ট বলা আছে—
যে কোনো বন্দির নিকটাত্মীয় মৃত্যুবরণ করলে রাষ্ট্র তার প্রতি ন্যূনতম মানবিক সহানুভূতি প্রদর্শন করবে।
অন্তত শেষবার দেখার সুযোগ, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ, এবং প্রয়োজন হলে প্যারোলে সংক্ষিপ্ত মুক্তির সুযোগ। এটাই বিশ্বের মানবিক নীতিমালা—এটাই সভ্য সমাজের সাধারণ মানবতা।
কিন্তু বাংলাদেশে হচ্ছে এর সম্পূর্ণ উল্টো দৃশ্য।
একজন স্বামীকে তার মৃত স্ত্রী–সন্তানকে “কারাগারের গেটের সামনে” দাঁড় করিয়ে দেখানো—এটা শুধু আইন ও নীতির ব্যর্থতা নয়, এটি যে কোন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মানবিক দেউলিয়াত্বের নগ্ন ঘোষণা। এমন আচরণ কোনো গণতান্ত্রিক বা মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় হয় না।
এটা পশুত্ব—এটা নৈরাজ্য—এটা ক্ষমতার হিংস্র স্বেচ্ছাচার।
এখানে প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়—দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কি এতটাই অজ্ঞ, এতটাই অনুভূতিশূন্য? নাকি এর ভেতরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, কারো ‘অ্যাজেন্ডা’ বাস্তবায়ন,
কেন তারা প্যারোলের নিয়ম ব্যবহার করল না? কেন পরিবারের প্রতি ন্যূনতম মানবিক আচরণও দেখানো হলো না? প্যারোল দিয়ে একদিনের জন্য তাকে ছুটি দেওয়া যেত। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবিক নিয়ম।
কিন্তু বাংলাদেশে সেই মানবাধিকার—“ঘণ্টার হিসাবে”—মাপা হচ্ছে! যা আসলে গভীর রাষ্ট্রীয় অরাজকতারই বহিঃপ্রকাশ। দায়িত্বে থাকলে দায়িত্ব নিতে হয়। এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে তদন্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা—এটা শুধু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়, এটি রাষ্ট্রকে অমানুষের হাত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রশ্ন।
একাত্তরের স্বাধীন এই দেশটা দিনের পর দিন যেন এক ভয়াবহ পশুরাজত্বের মধ্যে ঢুকে গেছে—যেখানে মানুষের কষ্ট, মৃত্যু, শোক—কোনো কিছুরই মূল্য নেই।
শুধু ক্ষমতা, অহংকার আর প্রশাসনিক রোবোটিকতা।
সাদ্দামের এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা সমালোচনায় পরিনত হয়েছে। যা দেশ ও দেশের মানবতা নিয়েও প্রশ্নবিদ্ধ।
