শেখ রাসেল: এক অসমাপ্ত শৈশবের প্রতীক
বশির আহমদ জুয়েল
আজ শেখ রাসেলের জন্মদিন। যদি বেঁচে থাকতেন, তিনি হতেন এক পরিণত মানুষ, হয়তো সমাজ, সংস্কৃতি কিংবা বিজ্ঞানের কোনো ক্ষেত্রে অবদান রাখতেন জাতির জন্য। কিন্তু তা আর হলো না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সেই রক্তাক্ত প্রভাতে, মাত্র দশ বছরের শিশু রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল—জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে।
রাসেল ছিল এক চঞ্চল, মেধাবী, আর হাসিখুশি শিশু। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া, দেশের জন্য কিছু করা। কিন্তু ঘাতকদের নিষ্ঠুর হাতে থেমে যায় সেই স্বপ্ন। ইতিহাসে এমন নির্মমতা বিরল—একটি জাতির পিতার সঙ্গে তাঁর শিশু পুত্রকেও হত্যা করা হয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায়।
শেখ রাসেল আজ শুধু একটি নাম নয়, তিনি এক প্রতীক—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের প্রতীক, মানবতার প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর অবুঝ চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নকে হত্যা করা মানেই ছিল একটি প্রজন্মের আশা হত্যা।
আজ এই দিনে আমরা শুধু তাঁকে স্মরণ করি না, বরং প্রতিজ্ঞা করি—এই দেশের মাটি থেকে যেন আর কোনো রাসেলের কান্না না ওঠে, কোনো শিশুর শৈশব যেন রাজনৈতিক ঘৃণার বলি না হয়।
শেখ রাসেল বেঁচে আছেন—প্রতিটি শিশুর হাসিতে, প্রতিটি মায়ের প্রার্থনায়, আর এই বাংলার প্রতিটি ভালোবাসায়।
