আ. লীগ নেতার হিমাগারে ভাই-বোনকে আটকে নির্যাতন, আটক ৩
রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকায় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের মালিকানাধীন হিমাগারে এক তরুণ, নারী ও কিশোরীকে আটকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে বায়া এলাকায় ‘সরকার কোল্ড স্টোরেজ’-এর অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্যাতনের শিকার তিনজনের বাড়ি একই উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামে। আহত তরুণ (২৭) রাজশাহীর একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে থাকা নারী (৩০) ও কিশোরী (১৩) তার খালাতো বোন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ওই তিনজনকে হিমাগারের অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে আটক করে রাখেন জিকো ও তার দুই বোন। পরে সেখানে লাঠি, বাঁশ ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তাদের শরীরে সেফটি পিন ফুটিয়ে নির্যাতন করা হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
দুপুরে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, আহত নারী খুঁড়িয়ে হাঁটছেন, তার কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। আহত মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর হাতে ও পিঠে জখমের দাগ দেখা গেছে। আর কিশোরীর ঠোঁটে রক্তাক্ত চিহ্ন রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী জানান, মোহাম্মদ আলী সরকারের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল।
তিনি আরো জানান, নির্যাতনের সময় তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। বাইরে থেকে স্থানীয় লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচিতে পরে দরজা খোলা হয়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী সকাল ১১টা থেকে হিমাগারের ভেতরে তিনজনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যায়।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
