চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে যত ভুল ধারণা
সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ ঘিরে পৃথিবীর অনেক দেশেই নানারকম ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুল ধারণা কিংবা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গ্রহণ সম্পর্কে এমন কিছু কুসংস্কার যা অনেক দেশেই বেশ গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। গ্রহণ সম্পর্কে সবচেয়ে বড়ো কুসংস্কার খাওয়া-দাওয়াকে ঘিরে।
সূর্যগ্রহণের সময় কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয় অনেক জায়গায়। সেসব জায়গার মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় খাবার খাওয়া তো অমঙ্গলজনক বটে; রান্না করাও অমঙ্গলজনক। কিন্তু এরকম ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিজ্ঞানীরা কখনোই পাননি।
সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে আরেকটি ভুল ধারণা হলো সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণ করলে তা অমঙ্গলজনক। এই ধারণা প্রচলিত রয়েছে ভারত বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে। তাদের মতে, সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণ করলে গ্রহণের সময় সূর্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর রশ্মি গায়ে লেগে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নওরীন আহসান বলেন, গ্রহণের সময় সূর্য থেকে আলাদা কোনো ক্ষতিকর রশ্মি নিঃসরণ হয় না, কাজেই আলাদাভাবে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
গ্রহণের পর গোসল করা নিয়েও রয়েছে মানুষের ভুল ধারণা। সূর্যগ্রহণের ফলে তথাকথিত যেসব ক্ষতিকর রশ্মি শরীরের সংস্পর্শে আসে, সেসব রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে গ্রহণের শেষে গোসল করার উপদেশ দেওয়া হয়ে থাকে অনেক জায়গায়। এই ধারণাটিও সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক নওরীন আহসান।
বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে সূর্যগ্রহণ দেখার কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। অনেক জায়গায় সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার উপদেশ দেওয়া হয়। সতর্ক করা হয় এই বলে যে, সামান্য সময়ের জন্যও খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তবে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নওরীন আহসানের মতে, শুধু সূর্যগ্রহণের দিনই যে সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকানো উচিত নয় বলে যে ধারণা প্রচলিত সেটিও ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর)। তবে আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ। মোট সাত ঘণ্টা ২৭ মিনিট স্থায়ী হবে গ্রহণ। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ২৭ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
