সিলেটে মুক্তিপণ না দেয়ায় ছাদ থেকে ফেলে হত্যা : গ্রেফতার ২

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

সিলেটের বহুল আলোচিত আবুল হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে র‌্যাব-৯, সিলেট এবং র‌্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে ঢাকার ধানমন্ডি ও সিলেট শহরে আলাদা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আজ শনিবার (৯ আগস্ট) র‌্যাব-৯ এর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে—২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভিকটিম আবুল হাসান ও তার চাচাতো ভাই মিনহাজকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে কোতয়ালী থানার আম্বরখানাস্থ একটি পাঁচ তলা ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা।

পরবর্তীতে তারা আবুলের কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবুলকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং একপর্যায়ে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুলকে হাসপাতালে নিলে পরদিন (১৯ জুন) সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা নং–২৬, তারিখ–২১/০৬/২০২৪, ধারা–৩০২/৩৬৪/৩৮৬/৩৮৭/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-৩ এর যৌথ দল রাজধানীর ধানমন্ডি থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার পলাতক আসামী মো. নাজমুল হোসেন ওরফে রায়হান (২০) সিলেটের কানাইঘাটের পূর্ব কাড়াবাল্লা গ্রামের মো. আব্দুল মজিদের ছেলে।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন মজুমদারি কোনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই মামলার অপর পলাতক আসামী রাজু (১৮) কে গ্রেফতার করা হয়। রাজ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার রাজাপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে।

জানা যায়, ২০২৪ সালে ঈদুল আযহার পরের দিন (১৮ জুন) রাতে অসুস্থ বোনকে দেখতে সিলেট আসেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার  পূর্বভাগ কলাশহর গ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে আবুল হাসান। সাথে ছিলেন তার চাচাতো ভাই মিনহাজ। বোনকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও সিএনজিচালক ও গাড়িতে থাকা আরেক যাত্রী তাদেরকে নিয়ে যান আম্বরখানাস্থ ব্রিটানিয়া হোটেলের পাশে। সেখানে একটি ৫ম তলা ভবনের ছাদে নিয়ে তাদেরকে কিল-ঘুষি মেরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এরপর আবুল হাসানকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিলে তিনি নিচের একটি টিনশেড বাসার ওপর পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল হাসানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, আবুল হাসান যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই অপহরণকারীরা তার প্রাণ কেড়ে নিলো।

এ ঘটনায় নিহত আবুল হাসানের বড় ভাই খালেদ আহমদ সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ৫ দিন পর ২৩ জুন নগরীর কাজীটুলা মক্তবগলি এলাকা থেকে রায়হান আহমদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকায় উবায়দুল হকের পুত্র। রায়হান আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন এবং তার সাথে থাকা অন্য সহযোগীদের নাম পরিচয় জানান। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ২ জনকে গ্রেফতার করে। রায়হান আহমদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৯ মিডিয়া অফিসার (অতিঃ পুলিশ সুপার) কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

এ বিভাগের অন্যান্য