সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে সংকটে ফেলতে পারে

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ হটিয়ে জনগণ রাষ্ট্র এবং সরকারে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার অর্পণ করেছে। কিন্তু তাদের একটি গ্রুপ নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পতিত,পরাজিত, পলাতক, বিতাড়িত, ফ্যাসিবাদী অপশক্তি রাষ্ট্র রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার সুযোগ নিতে ওত পেতে রয়েছে।সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তে দেশে গণতন্ত্র উত্তরণের যাত্রাপথকে সংকটে ফেলে দিতে পারে।

দেশে ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে।এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং থাকা প্রয়োজন।’ 

তিনি গতকাল বুধবার সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক-ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থান ‘নারকীয় আশুলিয়া স্মরণে’ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রে দক্ষ সরকার ও দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছে এবং জীবন উৎসর্গ করেছে।

 

সুতরাং সরকারে যারাই থাকুক তাদেরকে অবশ্যই নাগরিকদের কথা শুনতে হবে।প্রতিটি নাগরিকের আশা এবং ভাষা বুঝতে হবে। কেউ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে হলে তাঁকে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। বিএনপি জনগণের ক্ষমতায়নের এই রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদরা কিন্তু শুধু একটি সংখ্যা নয়, একটি প্রাণের সমাপ্তি, একটি পরিবারের মৃত্যু, একটি স্বপ্ন-সম্ভাবনার অবসান। তবে আপনাদের সন্তানদের শহীদি মৃত্যু দেশ এবং জনগণকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে। বিএনপি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাভার আশুলিয়া কিংবা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের আত্মত্যাগের সম্মানে একটি বিশেষ স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু একটি সরকারি চাকরির আশায় শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ সেদিন রাজপথে জীবন উৎসর্গ করেনি। এই জনগণ একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বপ্ন নিয়ে, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল।

কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্র সংস্কারের যে কর্মযজ্ঞ চলছে সেখানেই বা তাদের প্রতিনিধিত্ব কোথায়। রাষ্ট্র এবং রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণকে দুর্বল রেখে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক সরকার কিংবা সংস্কার কোনো কিছুকেই শক্তিশালী ও টেকসই করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের জনগণ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠলে ভবিষ্যতে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আর দেশকে কেউ তাঁবেদারি রাষ্ট্র করতে সক্ষম হবে না।’ 

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা এমন একটি জাতি,  ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আমাদের নেতা বা নেতৃত্ব দেন, যাদেরকে এ দেশের মানুষ নেতা বলে মনে করে তারা ক্ষমতায় চিরদিন টিকে থাকার জন্য এভাবে গুলি করে, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, যেটা হাসিনা করেছেন। আজ গোটা জাতি হাসিনার বিচার চায়।’

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, হাসিনা পালিয়ে গেছেন ভারতে এবং ভারত তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। এখনো সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের অডিও ও ভিডিও বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্য এবং উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি যেটি গোপালগঞ্জ করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর এই হাসিনা সরকার দেশের মানুষের ওপর স্টিম রোলার চালিয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের যে আন্দোলন, ভোটের অধিকারের জন্য আমাদের যে আন্দোলন, এ আন্দোলন তো আমাদের করার কথা ছিল না, এটা তো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও  সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। সমাবেশে সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে গুলি করেছে শুনেছি, কিন্তু খুঁজি পাই না। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেখতে পারি আমার স্বামীকে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। পরের দিন জিডি নিলেও সেটি উঠিয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে। দুটি বাচ্চা নিয়ে আমি কষ্টে আছি। আমার স্বামীর নাম এখনো গেজেটভুক্ত হয়নি। তাই এখনো শহীদের মর্যাদা পায়নি। অন্তত শহীদের মর্যাদাটা দেন। বিচার চাই।’

শহীদ আরিফুর রহমানের ভাই সাইদুর রহমান বাবু বলেন, ৫ আগস্ট ঢাকায় লং মার্চে যোগ দিয়ে সাভার থানার সামনে গেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়ার পর মারা যান।

শহীদ বায়েজিদ বোস্তামির স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার সন্তান বাবা বাবা করে ডাকে, কিন্তু তাকে আমি কিছু বলতে পারি না। শেখ হাসিনাকে আশুলিয়ায় এনে তাঁর বিচারের দাবি জানাই।’

এর আগে সাভার আশুলিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া সবার পরিবারের হাতে শহীদি সম্মাননা তুলে দেন বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য