১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর বেতন বাড়বে, চাপ পড়বে বেসরকারিতে
পারিবারিক ব্যয় কমিয়ে অনেকেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে। মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা— সব খাতেই প্রয়োজনীয় খরচের বোঝা বইতে না পেরে মানুষ খরচ কমানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াতে পে কমিশন গঠন করেছে সরকার। কিন্তু বেসরকারি খাতের বিপুলসংখ্যক চাকরিজীবীর বেতন বাড়াতে নেই কার্যকর উদ্যোগ, যা সামাজিক বৈষম্য আরো উসকে দেবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ১০ বছর পর বেতন কমিশন হলো।
এমনিতেই দেশে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে। বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি সরকার। উল্টো কর্মসংস্থান কমছে। সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে অনেকে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়িয়ে তুলবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ সরকারি ও বেসরকারি সবার ওপরে আছে। সরকার চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বেসরকারি খাতে দীর্ঘদিন বেতন বাড়েনি। সরকারি পর্যায়ে বেতন বাড়লে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপে পড়বেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারের হাতে টাকা নেই। মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্যের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বৈষম্য বাড়াবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, গত বছরের জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১.৬৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত তা প্রায় দুই অঙ্কের ঘরেই ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। পরে তা কমে ৯ শতাংশের বেশি ছিল। গত জুন মাসে কিছুটা কমে ৮.৪৮ শতাংশ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি ও নানা কৌশলে কমে এলেও ধরে রাখা কঠিন। এর পরও প্রকৃত দামের চেয়ে গত এক বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি দামে পণ্য কিনেছে ভোক্তা। মূল্যস্ফীতির এই হার অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এক পণ্যে কিছুটা কমলেও অন্য পণ্যে দাম বেড়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা হলে বেসরকারি খাতে চাকরিজীবীরা সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, বেতন বৃদ্ধির এই দৌড়ে নেই বেসরকারি খাত। শ্রম জরিপ অনুযায়ী, দেশে চাকরির বাজারে নিয়োজিত এখন প্রায় ছয় কোটি মানুষ। তার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক খাতেই কাজ করে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ। করোনা এবং বৈশ্বিক নানা সংকটে দীর্ঘ সময়ে বাড়েনি বিপুলসংখ্যক এসব মানুষের বেতন। তাদের কণ্ঠেও আছে এ নিয়ে হতাশা। বাড়িভাড়া, খাওয়া-পরা সব মিলিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দেশের মানুষের বড় অংশ।
দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান। আর সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ এই সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ।
