ইউক্রেনের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনার’ প্রস্তাব পুতিনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
ইউক্রেনের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনার’ প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি আলোচনা চাই যা প্রকৃত সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে এবং দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল শান্তির পথ উন্মুক্ত করবে।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার রাতে ক্রেমলিন থেকে একটি টেলিভিশন ভাষণে ‘সরাসরি আলোচনার’ প্রস্তাব দেন পুতিন। তিনি জানান, আলোচনার জন্য তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলকে স্থান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আজ রবিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনসহ ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেন সফর এবং রাশিয়াকে আগামী সোমবার থেকে যুদ্ধবিরতির জন্য ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুতিন এই প্রস্তাব দিলেন।
এর আগে ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভে ‘কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে অংশ নিয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে ‘ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হবে।এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফোনে অংশ নেন এবং তিনিই প্রথম নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন।
বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘যদি পুতিন সত্যিই শান্তি চান, তাহলে তার এখনই সুযোগ আছে সেটা প্রমাণ করার।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য ধন্যবাদ। আমরা আজ বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গড়ে তোলার বিষয়ে মনোযোগী।’
ভাষণে পুতিন অভিযোগ করেন, ইউক্রেন আগে রাশিয়ার তিনটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি- যার মধ্যে ছিল ৩০ দিনের অবকাঠামো হামলা বিরতি, ইস্টারের যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মরণে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি।
তবে ইউক্রেন দাবি করেছে, এই সময়েও রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। রাশিয়াও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছে।
পুতিন বলেন, ‘সবকিছুর পরেও আমরা কিয়েভ সরকারকে সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তাব দিচ্ছি।’
এর আগে তিন বছরেরও বেশি সময় আগে সর্বশেষ সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। তবে পুতিনের এবারের প্রস্তাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন।
