অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত দ্বায়িত্বশীল আচারণ করছে: সারজিস আলম

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

পঞ্চগড়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন পর্যন্ত তাদের জায়গা থেকে দ্বায়িত্বশীল আচরণ করে এসেছে এবং করছে। প্রত্যেকটি জাতীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক দলের, স্পেশালি আমরা বিএনপি-জামায়াত থেকে মতামত নেয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রেআমরা এমনটিও দেখেছি যে, স্টুডেন্টরা তাদের দাবি জানাচ্ছে।’

আজ শনিবার সকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে ফুলের বাগান ও পানির ফোয়ারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্য প্রকাশ না করে, সেই জায়গা থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরে গিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বার্থকে সামনে রেখে সবসময়ই জাতীয় ঐক্যের চিন্তা করেছেন। আমরা মনে করি যে, তিনি সেটি ধারণ করেন, পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে তার সেই গ্রহণযোগ্যতা আছে বলেই ৫ আগস্টের পর আমাদের মাথায় সবার প্রথমে এই নামটি এসেছিল। এখন পর্যন্ত তিনি তার এই জায়গাটি ধরে রাখতে পেরেছেন।

সারজিস বলেন, আমরা কখনোই মনে করি না যে, অন্য কোনো রকমের আলাদা ফরমেটের সরকার প্রয়োজন রয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। যেখানে ড. মুহম্মদ ইউনূস প্রধান দ্বায়িত্বের জায়গাটিতে রয়েছেন। আমরা মনে করি তার হাত ধরেই বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন হওয়া প্রয়োজন। যেটি উন্মোচিত হতে পারে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের ভিত্তিতে, সেই স্বচ্ছ নির্বাচন আমরা বাংলাদেশের মাটিতে দেখতে পাব।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, দেখুন সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এক-এগারো কোনো স্বয়ংক্রিয় ঘটনা নয়, বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে এটা ঘটাতে একসময় বাধ্য করে।

সারজিস আরও বলেন, আমরা মনে করি, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের জন্য সবার আগে যেকোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠীর স্বার্থের আগে বাংলাদেশের স্বার্থ চিন্তা করতে হবে। এখন যদি সেটা চিন্তা করতে পারি তাহলে আমরা যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি এই অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটা সফল হওয়া সম্ভব। আর যদি সেটা না পারি তাহলে খুব স্বাভাবিক ভাবে সেটা শুধু দেশে না এই চক্রান্ত এখন দেশের বাহিরে থেকেও হচ্ছে। এই খুনি হাসিনা, তিনি কিন্তু দেশের বাইরে থেকে এই বাংলাদেশেরে মানুষের যে লক্ষ-কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গেছেন। সেগুলো দিয়ে এখন এই প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, চক্রান্ত করছেন। আমাদের আসলে যেমন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার তার জায়গা থেকে সচেতন থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলোরও তাদের জায়গা থেকে সচেতন থাকা প্রয়োজন। যে আমাদের ভিতরের কোনো চিন্তা বা মতপার্থক্যের সুযোগ বাইরের কেউ নিচ্ছে কি না। আমরা মনে সবার আগে যদি দেশের স্বার্থ চিন্তা করতে পারি, তাহলে যে স্পিরিট নিয়ে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই স্পিরিটে সফল হওয়া সম্ভব।

এ বিভাগের অন্যান্য