হারিকেন মিল্টন: জীবন ও মৃত্যুর মুখোমুখি ফ্লোরিডার মানুষ
গত ১০০ বছরের মধ্যে টাম্পার সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড় হবে। বর্তমানে এটি ক্যাটাগরি-৫ আকারের হারিকেনে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় আজ বুধবার এ হারিকেন আঘাত হানবে। শক্তিশালী এ হারিকেনের প্রভাবে টাম্পা এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ফ্লোরিডার মানুষ ‘জীবন ও মৃত্যুর’ মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি স্থানীয়দের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলেন।
ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার তার সর্বশেষ আপডেটে জানিয়েছে, হারিকেন মিল্টন বুধবার গভীর রাতে ফ্লোরিডার উপসাগরীয় উপকূলে আছড়ে পড়বে। দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে হারিকেন হেলেনের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে ২২৫ জন নিহত হন। এ ছাড়া আরো কয়েকশ নিখোঁজ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ জন ছিল ফ্লোরিডার।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার স্থানীয়দের শক্তিশালী বাতাসের জন্য সতর্ক করে বলেছে, হেলেন থেকেও ধ্বংসাত্মকভাবে মিল্টন। বৃষ্টিপাতের মোট পরিমাণ ১৫ইঞ্চি (৩৮ সেন্টিমিটার) উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ১০-১৫ফিট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
হারিকেন বাতাসের গতির ওপর ভিত্তি করে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস অনুসারে, ক্যাটাগরি-৩ এবং এর ওপরের ক্যাটাগরিকে বেশি মারাত্বক ধরা হয়। কারণ ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গতকাল মঙ্গলবার থেকেই বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে স্কুল বন্ধ শুরু হয়েছে। টাম্পা এবং অরল্যান্ডোর বিমানবন্দর ঝড় শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখবে। নির্দেশনা অমান্য করে এখনো যারা সরে যাননি তাদের সতর্কবার্তা দিয়ে টাম্পার মেয়র জেন ক্যাস্টর বলেন, ‘বিপর্যকর প্রভাব ফেলবে হারিকেন মিল্টন। নির্দেশনা অনুসারে আপনারা সরে না গেলে মারা যাবেন। সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে। সত্যি বলতে, আমি আমার জীবনে এমন হারিকেন আগে কখনো দেখিনি।’
সূত্র : বিবিসি
