ইন্দোনেশিয়ায় রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবি, ৫০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে রোহিঙ্গা শরণার্থী বোঝাই একটি নৌকা ডুবে গেছে। নৌকাটিতে আনুমানিক ১৫০ জন রোহিঙ্গা ছিলেন বলে জানা গেছে।  নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান।

স্থানীয় সময় বুধবার (২১ মার্চ) সকালে খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি আচেহের পশ্চিম উপকূলে কুয়ালা বুবনের সৈকত থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার (১২ মাইল) দুর্ঘটনায় পড়ে।

ডুবতে থাকা নৌকা থেকে তখন ছয় জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন স্থানীয় জেলেরা। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চারজন নারী এবং দুইজন পুরুষ। স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে একটি আশ্রয়ে নিয়ে যায় এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর প্রতিনিধি ফয়সাল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। 

রহমান বলেন, “বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অনেকেই পানিতে ডুবে মারা গেছে।

” তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “আমরা হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারছি না। তবে উদ্ধার হওয়া ছয়জনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেকে নিহত হয়েছেন। তারা ধারণা করছেন,  নৌকা ডুবে প্রায় ৫০ জন মারা গেছেন।” 

নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল নারী ও শিশু বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তারা সাঁতার জানতেন না।

ফলে স্রোতের কবলে পড়ে সমুদ্রে ভেসে যান। স্থানীয় জেলেদের ধারণ করা একটি ভিডিও ইন্দোনেশিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা উল্টে ডুবন্ত নৌকার ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। তারা জেলেদের দিকে হাত নেড়ে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করছে। 

পশ্চিম আচেহর মৎসজীবী সমাজের অন্যতম নেতা নন্দ ফেরদিয়ানসিয়াহ বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টার দিকে পশ্চিম আচেহর উপকূলে একটি রোহিঙ্গা যাত্রীবাহী নৌকা ডুবতে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে স্থানীয় একটি মাছধরা নৌকা।

মাছধরা নৌকাটি সেখানে পৌঁছানোর পর ডুবতে থাকা নৌকাটির যাত্রীদের সবাই সেই নৌকায় উঠে পড়েন। কিন্তু এত যাত্রী নেওয়ার মতো ক্ষমতা মাছ ধরা নৌকাটির ছিল না। ফলে সেটিও ডুবে যায়। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংক্রান্ত সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নৌকাটিতে একশ বা তার বেশি রোহিঙ্গা ছিলেন। ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা আশা করছি (ডুবে বা ভেসে যাওয়া) রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে ইন্দোনেশিয়ার সরকার শিগগির তৎপরতা শুরু করবে। এটা জরুরি অবস্থা।’

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সাগরপথে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ এবং উত্তর সুমাত্রায় পৌঁছেছেন অন্তত ১ হাজার ৭৫২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এই শরণার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী-শিশু। বিশ্বের অন্যতম নিপীড়িত নৃগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে পছন্দের দুই গন্তব্য মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।

সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি

এ বিভাগের অন্যান্য