আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন জাবি প্রক্টর ফিরোজ, দায়িত্ব পেলেন আলমগীর কবির
সিলেটের সময় ডেস্ক :
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান। আজ সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে সাময়িকভাবে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর।
আজ সোমবার দুপুরে রেজিস্ট্রার আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নতুন প্রক্টর নিয়োগের কথা জানানো হয়।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে হলসংলগ্ন জঙ্গলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত ও সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে নিপীড়কদের সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলমের অপরাধ তদন্ত এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রশাসনিক পদ থেকে তাদের অব্যাহতিসহ পাঁচ দাবিতে আন্দোলন করতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ’।
পাঁচ দফা দাবিতে ১১ মার্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। তিন দিন অবরোধের পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওই আলোচনায় উপাচার্য আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেন ১৭ মার্চের মধ্যে প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলম পদত্যাগ করবেন। যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে ১৮ মার্চ তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান আজ পদত্যাগ করেন।
এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সময় ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সহকারী প্রক্টর ও ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পান আ স ম ফিরোজ উল হাসান। এরপর ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর স্থায়ী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। স্থায়ী দায়িত্ব পাওয়ার পর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে উঠে আসে আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়া, দোষীদের বাঁচাতে লেজুড়বৃত্তি, নিয়োগ বাণিজ্য, মাদক সিন্ডিকেটে সহায়তা, ছাত্র-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা অভিযোগে তার নাম আলোচনায় উঠে আসে।
আজ দুপুরে রেজিস্ট্রার আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীরকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রক্টর আ স ম ফিরোজ—উল—হাসানের লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় এবং পরিসংখ্যান ও ডাটা সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীরকে ১৮.০৩.২০২৪ তারিখ অপরাহ্ন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যাক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি এবং শহীদ তাজউদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ঘটনা প্রবাহে কয়েকটি দাবি উল্লেখ পূর্বক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সেসব বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার জন্য ২-১টি পদে পরিবর্তনের বিষয়টিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে।
