গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন : হাসপাতালে ধুঁকছে দগ্ধরা, শঙ্কায় স্বজন
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তেলির চালা এলাকায় সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুনে দগ্ধ ও আহত ৩২ জন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় শতভাগ পুড়ে যাওয়া সাতজন রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া পাঁচজন রোগী আইসিইউ এবং দুজন এইচডিইউয়ে ভর্তি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে চিকিৎসা বোর্ড সভায় এই তথ্য জানান হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নওয়াজেস খান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বার্ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক (রেডিওলজি) ডা. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক (অ্যানেসথেসিওলজি) ডা. আতিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক (বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি) ডা. হাসিব রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা।
তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে প্রাথমিক খরচ হিসেবে সাত হাজার ৫০০ টাকা করে অনুদান দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের পরিবারের কাছে ওই টাকা প্রদান করা হয়।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক জানান, গ্যাসের আগুনে ৩৬ জন দগ্ধ হয়। তাদের মধ্যে ৩৪ জন আছে ঢাকায় আর দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। অগ্নিদগ্ধদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে, তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে থাকা গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম বলেন, ‘এখানে যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে তাদের ডিলারশিপ ঠিক আছে কি না, তা দেখা হবে।’
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘেঁষে লম্বা সারিতে দুই পাশে টিনশেড ঘর। ঘরের মাঝখান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যাতায়াতের গলি। সেই গলির পাশে আবার সারি সারি করে বসানো লাকড়ির চুলা। চুলার পাশে থাকার ঘর।
দগ্ধ হওয়াদের স্বজনদের বেশির ভাগ ঘরে তালা ঝুলছে। তারা গেছে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে রোগীর খোঁজখবর নিতে। দুর্ঘটনার পর থেকে কলোনির মালিক শফিক খান পলাতক।
শফিক খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া মিরাজ হোসেন বলেন, ‘বাসার কক্ষগুলো একেবারেই ছোট, ভেতরে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখার জায়গা নেই। তাই গলির পাশে চুলা বানিয়ে রান্না করা হয়।’
দুপুরে দেখা গেল, কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুন নেভানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে, দুর্ঘটনার আগে থেকে কেন এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো না?
সিলিন্ডার বিক্রেতারা পালিয়েছেন
আগুন লাগার ঘটনার পর থেকে আশপাশের দোকানগুলো থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যেসব দোকানে শুধু গ্যাসের সিলিন্ডারই বিক্রি হতো, সেই দোকানগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে।
