আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের শিবগঞ্জ ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে পুলিশ আটক করেছে।

নিহত ওই ব্যক্তির নাম মজিবর রহমান (৫১) ওরফে দা মজিবর। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ও বিরিশিরি ইউনিয়নের নলজোরা গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মারামারি, সীমান্তে পাচার ব্যবসাসহ প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মজিবর রহমানের সঙ্গে কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবদুল আওয়াল এবং তার ভাই মো. শামিম মিয়া (৩৩) ওরফে সোটার শামিম, মো. বদিউজ্জামানদের (৪২) মধ্যে সীমান্তে চোরাচালান ব্যবসা ও আধিপত্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে সীমান্তে চোরাচালান ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আবদুল আওয়াল ও তার ভাইদের হামলায় গত ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর কুল্লাগড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতা সুব্রত সাংমা (৪৫) নিহত হন। হত্যার বিচারের দাবিতে সুব্রত সাংমার পরিবারের পক্ষে মজিবর রহমান অবস্থান নিলে আবদুল আওয়ালদের সঙ্গে তার বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মজিবর রহমানের ভাতিজা সরকারি সুসং ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র খায়রুল ইসলাম কলেজে যায়। এ সময় তাকে আবদুল আওয়ালের ছেলে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আবির মারধর করে। কিছুক্ষণ পর খায়রুল তার এলাকা শিবগঞ্জ ঘাটে এসে লোকজন নিয়ে আবিরকে মারধর করে।

বিষয়টি জানাজানি হলে বেলা ১১টার দিকে আবদুল আওয়ালের ছোট ভাই মো. শামিম মিয়া লোকজন নিয়ে এসে খায়রুলের বাবা মজিবর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ওই স্থানে মজিবরের একটি টিনের দোকান ভাঙচুরসহ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিপক্ষের হামলায় মজিবর, তার ছেলে কুল্লাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মো. রাজন, মো. ছাব্বির, স্বজন ফারুক মিয়া, নাঈম মিয়াসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত মজিবর রহমানকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মজিবরের ছেলে আহত মো. ছাব্বির দাবি করে বলেন, শুটার শামিম তার দলবল নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। আব্বাকে কোপানোসহ গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শামিম ও তার ভাইয়েরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব বিস্তার করেছে। তাদের তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, অস্ত্র, চোরাচালানসহ প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে। তাদের ভয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের মারধরসহ আমার বাবাকে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রকিবুল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই প্রচুর রক্তক্ষরণে মজিবর রহমান মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে ধারালো কোনো ছুড়ার আঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। গুলির চিহ্ন আছে কিনা তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পেলে স্পষ্ট হবে।

এ ব্যাপারে আবদুল আওয়াল ও তার ভাই শামিম মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ যুগান্তরকে মোবাইল ফোনে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে মজিবর রহমান ওরফে ‘দা মজিবর’ নামের একজন নিহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ আটক করেছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনি তার নাম বলছি না।

তিনি আরও বলেন, নিহত ‘দা মজিব’ এর নামে গত ১০ বছরে ১২টি মামলা রয়েছে। আর সোটার শামিমের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত খুন, মাদক, অস্ত্র, নাশকতা, সীমান্তে চোরাচালানসহ অন্তত ২৫টি, তার বড় ভাই আবদুল আওয়ালের নামে ২৪টি ও বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য