মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা
সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের রতনকাঞ্ছাদি উত্তরপাড়া গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রিদুয়ান ইসলামকে (৮) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুকে হত্যার পর লাশ ঘাসের জমিতে ফেলে দিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
সোমবার তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তিন ঘাতককে আটক করে।
নিহত রিদুয়ান ওই গ্রামের মো. মমিরুল ইসলামের ছেলে। সে নগরডালা বাজারের হাবিবুল্লাহ কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
এ বিষয়ে নিহতর চাচা কামরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকালে রিদুয়ান বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এ দিন রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে অপহরণকারীরা শিশুটির পিতা মমিরুলের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ওই রাতেই পিতা মমিরুল ইসলাম পুত্র রিদুয়ানকে বাঁচাতে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপর থেকেই অপহরণকারীদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন শনিবার সকালে মমিরুল সন্দেহভাজন তিনজনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
রোববার রাতে অপহরণকারী তিনজনকে গ্রেফতার করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার সকালে পুলিশ শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া দহবিল ঘাসের জমি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা আইনে মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা মনিরুল বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
আসামিরা হলেন- উপজেলার রতনকান্দি গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে সাগর (১৯), আব্দুল জলিল ভক্তের ছেলে ভ্যানচালক নাঈম (২০) ও জিগারবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে সাখাওয়াত (১৯)।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল মজিদ বলেন, শিশুটি অপহরণের পর গত শনিবার আমরা অভিযোগ পাই এবং রোববার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা লাশ উদ্ধার করি। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
