‘আমি জ্যাকলিনকে রক্ষা করব’, আদালতে সুকেশ

বিনোদন ডেস্ক ঃ

 

২০০ কোটির আর্থিক প্রতারণার মামলায় জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন কনম্যান সুকেশ চন্দ্রশেখর। দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হাজিরা দিয়েছেন সুকেশ। সেখানে ‘কথিত বান্ধবী’ জ্যাকলিনকে নিয়ে বিবৃতিও দেন তিনি।

ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুসারে, সুকেশ আদালতকে জানায়, ‘জ্যাকলিন এই মামলার অংশ নয়, ওর এসব নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই, আমি ওকে রক্ষা করার জন্য সবসময় আছি’। এর আগে যখন দিল্লির একটি আদালত থেকে সুকেশকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল ইওডব্লিউ’র কর্মকর্তারা, তখন সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিককে সুকেশ অনুরোধ জানিয়েছিলেন তাঁর হয়ে জ্যাকলিনকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে। এখানেই তাঁর আর জ্যাকলিনের সম্পর্ক নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন সুকেশ।

 

যখন সুকেশকে জানানো হয় যে জ্যাকলিনের দাবি তিনি অভিনেত্রীকে ব্যবহার করেছেন, তখন জবাব আসে, ‘আমি তাঁর সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করতে চাই না। সে নিশ্চয়ই বলার কারণ পেয়েছে বলেই একথা বলেছে। আমি তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। যখন আপনি কাউকে ভালোবাসেন, আপনি তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।’

এর আগে সুকেশ সম্পর্কে পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে দেওয়া বিবৃতিতে জ্যাকলিন বলেছেন, ‘সুকেশ আমাকে বিভ্রান্ত করেছে, আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করেছে।’ অভিনেত্রী জানিয়েছেন সুকেশ তাঁর সঙ্গে দেখা করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে। জ্যাকলিনের মতে, “তখন মনেই হয়েছিল কেউ ফাঁকি দিচ্ছে। সুকেশ নিজেকে সান টিভির মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে জে. জয়ললিতা তাঁর আত্মীয়। তিনি বলেছিলেন তিনি আমার একজন অনুরাগী এবং তার অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে। আমাদের দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করা উচিত।”

জেল থেকে সুকেশের ফোন করার ব্যাপারে জ্যাকলিন জানিয়েছেন, “তিনি আমার শ্যুটিংয়ের আগে, সারাদিন এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ফোন করতেন। তিনি কখনও বলেননি যে জেল থেকে ফোন করছেন। আর ভিডিও কলের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখেও আমার মনে হয়নি সেই ফোন জেল থেকে করা। পেছনে সোফা আর পর্দা দেখা যেত। নিজেকে পরিচয়ও দিয়েছিলেন শেখর হিসেবে। আমাকে শেখর ঠকিয়েছে। আমি যখন শেখরের বাস্তব জানতে পারি, তখনই জানতে পারি ওর আসল নাম সুকেশ।”

 

প্রসঙ্গত, ইডি’র দাবি ছিল যে জ্যাকলিন আর সুকেশের সম্পর্ক রয়েছে। কনম্যানের থেকে অর্থিক সুবিধা ও দামি দামি উপহারও নিয়েছেন নায়িকা ও তাঁর পরিবার। এমনকি, সত্যিটা বুঝতে পেরেও প্রাথমিকভাবে সরে আসেননি। ইডি’র কাছেও খোলাখুলি সবটা জানাননি প্রথমে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে দুজনের ঘনিষ্ঠ ছবি। যার মধ্যে একটিতে জ্যাকলিনের গলায় স্পষ্ট লাভ বাইটের দাগও ছিল। এরপরেই দুজনের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং উভয়েই সম্পর্কের কথা স্বীকারও করেন।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা

এ বিভাগের অন্যান্য