দশ হাজার টাকা চুক্তিতে মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যা!

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর মাছ ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম (৩৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন চাচা সাইফুল ইসলামের পরিকল্পনা ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুই ঘাতক নজিবুল ও দিদার আলী। এরই মধ্যে চাচা সাইফুল ও দিদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাঞ্চল্যকর কামরুল হত্যার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা।

এ সময় তিনি জানান, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের যোগীগছ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী কামরুল ইসলামকে ২৩ জানুয়ারি থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ২৫ জানুয়ারি দুপুরে তার ছোট ভাই কাবুল ইসলাম তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওইদিন বিকেলেই তেঁতুলিয়ার দেবনগর ইউনিয়নের ধানশুকা এলাকার করতোয়া নদীর পাশে একটি চা বাগানের ড্রেন থেকে ওই মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। ২৬ জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেঁতুলিয়া উপজেলার গরিয়াগছ এলাকার দিদার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিলে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য মতে সোমবার ভোরে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, নিহত কামরুল ইসলামের সাথে তার চাচা সাইফুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাই প্রতিশোধ নিতে তেঁতুলিয়া উপজেলার গরিয়াগছ এলাকার দিদার আলী ও যোগীগছ এলাকার সপিজউদ্দিনের ছেলে নজিবুল হককে ১০ হাজার চুক্তিতে ভাড়া করে সাইফুল। ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে কামরুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে দেবনগর ইউনিয়নের ধানশুকা এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে মাফলার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নজিবুল ও দিদার আলী। পরে  করতোয়া নদীর পাশে একটি চা বাগানের ড্রেনে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় তারা। ২৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই চা বাগানে খড়ি সংগ্রহ করার সময় স্থানীয় কয়েকজন নারী লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরদিন কামরুল ইসলামের বাবা বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা বলেন, আমরা হত্যাকাণ্ডের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। মাত্র ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে নজিবুল ও দিদার। তারা দুজনেই স্থানীয় চোর চক্রের সাথে জড়িত। দিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নজিবুলকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য