শিশু নাবিল হত্যা মামলায় সোহাগের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

চাঁদপুরে অপহরণের পর মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা না পেয়ে শিশু নাবিল রহমান ইমনকে (৬) হত্যা মামলার আসামি মো. শাহজালাল হোসেন সোহাগকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় পৃথকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় পৃথকভাবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এছাড়া তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

সোমবার দুপুরে মামলার রায় দেন চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী।

হত্যার শিকার শিশু নাবিল ফরিদগঞ্জ উপজেলার উপজেলার বালি-থুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মদনেরগাঁও গ্রামের মুন্সীবাড়ির মো. মিজানর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় চান্দরা বাজার শিশু-কিশোর একাডেমির পলে গ্রুপের ছাত্র ছিল। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর অপহরণের পর মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা না পেয়ে গলায় প্লাস্টিক পেঁচিয়ে শিশু নাবিল রহমান ইমনকে (৬) হত্যা করে শাহজালাল হোসেন সোহাগ (২৬)।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহাজালাল হোসেন সোহাগ একই ইউনিয়নের খাড়খাদিয়া গ্রামের মো. শাহজাহান মেকারের ছেলে।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর দুপুরে শিশু নাবিল দুপুরে স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার পথে আসামি সোহাগ অপহরণ করে চান্দরা বাজারে তার দোকানে নিয়ে যায়। দোকানে একটি কক্ষে শিশুকে আটকে রাখে এবং মোবাইল ফোনে শিশুর মায়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ওই দিনই তাকে গলায় প্লাস্টিক রশি পেঁচিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে শিশুটিকে কাগজের কার্টুনে ঢুকিয়ে বাজারের গলির ময়লার ডাস্টবিনে লুকিয়ে রাখে।

শিশুকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিনই শিশুর পিতা মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২ অক্টোবর বাজারের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ডাস্টবিনে শিশু নাবিলের মরদেহ কার্টুন থেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

মুক্তিপণের টাকা দাবি করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামি সোহাগকে ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইয়েদুল ইসলাম বাবু জানান, মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর চলাকালীন ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। সাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ রায় দেন। তবে আসামি জামিনের পর পলাতক রয়েছে। তার অনপস্থিতিতেই এ রায় দেন বিচারক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।

এ বিভাগের অন্যান্য