সশস্ত্র বাহিনী যেন কোনো দলীয় বাহিনীতে পরিণত না হয় : মেজর হাফিজ

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের অফিসার এবং সৈনিকরা। সৈনিকরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যদি পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধ না করত তাহলে আমরা স্বাধীন দেশ পেতাম না। কিন্তু বীর সৈনিকরা যে ৯ মাসব্যাপী জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়েছে এ কথাটি এ দেশের রাজনৈতিক নেতারা স্বীকার করতে চান না। ’

আজ রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বেনিন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বীর সেনাদের ১৯তম মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০০৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্বে থাকা ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক নেতারা প্রাণ রক্ষার্থে পাশের দেশে চলে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানি সেনাদের ভয়াবহ আক্রমণের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা বেসামরিক জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের ছিল না। ’

বেনিনে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সমাজে অনেক পেশা আছে। কিন্তু জীবন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শুধু সামরিক বাহিনীতেই আছে। সৈনিকের মৃত্যু অত্যন্ত সম্মানজনক ও মর্যাদাকর। বেনিনের দুর্ঘটনা সারা বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। ’

বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ হারানো সৈনিকদের স্মরণ করে মেজর হাফিজ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে, পাহাড়ে এবং বিভিন্ন সময়ে সামরিক বাহিনীর যেসব সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন তাদের জন্য এ জাতির আরো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিত। ’

এ সময় তিনি বেনিনের দুর্ঘটনা ও অন্য ঘটনায় সামরিক বাহিনীর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি দিবস রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের সুরক্ষার জন্য কাজ করার তাগিদ দিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, ‘পাশের দেশ মিয়ানমার মাঝেমধ্যে আমাদের সাথে অভদ্র আচরণ করে। এগুলোর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার মতো শক্তি, সামর্থ্য ও মানসিকতা আমাদের অর্জন করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী যেন কোনো দলীয় বাহিনীতে পরিণত না হয়। এটি যেন বাংলাদেশর জনগণের বাহিনী হয়। ’

অনুষ্ঠানে বেনিনের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শহীদ ক্যাপ্টেন আরিফের মা ফরিদা আকতার ছেলে সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন লে. জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম, মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারীসহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সেনাদের পরিবারের সদস্যরা।

এ বিভাগের অন্যান্য