শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে বিপাকে শিক্ষিকা, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

যশোরের মনিরামপুরে দেলুয়াবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জন রায়কে লাঞ্চনা করা  এক নারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি আনিচুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত রবিবার অফিস কক্ষে ওই শিক্ষিকাকে একা পেয়ে প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জন শাড়ি ধরে টান দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।

এ দিকে গত সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিন তদন্তে যান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার। তবে তিনি শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির সত্যতা পাননি বলে জানান।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আনিচুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে স্কুলে গেছিলাম। কিন্তু ঘটনার কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ তিনি (নারী শিক্ষক) উপস্থাপন করতে পারেন নি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের নিয়ম মানেন না। তিনি ইচ্ছামতো চলেন। এ জন্য তাকে তিন বার কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছিল। এবার তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

তবে ওই শিক্ষিকার দাবি, ‘১১ বছর ধরে তিনি দেলুয়াবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। গত আড়াই বছর ধরে প্রধান শিক্ষক তাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে তার স্বামী একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করেছেন। তাতেও প্রধান শিক্ষক থামেন নি। গত ১৪ নভেম্বর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ’

তিনি আরো বলেন, ‘গত রবিবার আমি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাই। এ সময় তিনি কক্ষে একা ছিলেন। আমাকে দেখে হাজিরা খাতা সরিয়ে রাখেন। আমি খাতা চাইলে তিনি তার কথায় রাজি হতে বলেন। এক পর্যায়ে তিনি শাড়ি ধরে টান দেন। ’

তবে প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জন রায় বলেন, ‘ঘটনা পরিকল্পিত। ওই শিক্ষিকা সময়মতো বিদ্যালয়ে হাজির হন না। এ ছাড়া তিনি অনুমতি ছাড়া ছুটি ভোগ করেন। তার এসব কাজে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটাচ্ছেন। ’

এ বিভাগের অন্যান্য