বসতবাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
সিলেটের সময় ডেস্কঃ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা আসলাম সরওয়ার রিমনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৪টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা আলমগীর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে ওই চেয়ারম্যানের বাড়িতে পুলিশ গেলে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাত এসেছে বলে প্রচার করা হয়।
ঢেমশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামাল মিয়া জানান, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা আসলাম সরওয়ার রিমন ও তার ভাই সাগরের নেতৃত্বে ৭০-৮০ জনের দল ধারাল অস্ত্র, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে আসেন।
এ সময় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা মো. পারভেজ, সানজিত, নিহান, কোরবান আলী, মো. শাহআলম, মুছা, ফয়সাল, মো. হারুন, আবুল কাশেম, হাজী আবদুর রশিদ ও তার বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। ঘরের আসবাবপত্র ও হাড়ি-পাতিল ভেঙে তছনছ করা হয়। এ ছাড়াও ঘরে লুটপাট চলে। নগদ টাকা, মোবাইল ও জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যান তারা।
মো. কামাল মিয়া বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলাম। চেয়ারম্যান রিমন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এ কারণে নির্বাচনের পর থেকে সে আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। নৌকার পক্ষে কাজ করায় ইতিপূর্বে রিমন ও তার কর্মী-সমর্থকরা অনেক আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বসতঘরে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত ১০টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ চেয়ারম্যান মির্জা আসলাম রিমনের বাড়িতে গেলে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাত এসেছে বলে প্রচার করা হয়। পুলিশ সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর চলে যায়।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, বিকালে চেয়ারম্যান মির্জা আসলাম সরওয়ার রিমনের নেতৃত্বে উত্তর ঢেমশার আলমগীর পাড়া, বড়বাড়ি ও আলী ফকির পাড়া এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাতে চেয়ারম্যান রিমনের বাড়ি এলাকায় গেলে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে প্রচার চালায়। বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যে একাধিকজন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
