উপকারভোগীর তালিকা সম্পর্কে কিছুই জানেন না জনপ্রতিনিধিরা: পরিকল্পনামন্ত্রী

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে জানতে চান উপকারভোগীর তালিকা তৈরির বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানেন কি না, তখন উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জানেন না বলে জানান। এতে মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সরকারের একটি প্রকল্পের অর্থ বিতরণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা জানেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেন মন্ত্রী।বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য ১৮ হাজার টাকা করে ৩২৫ জনের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হবে। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী জানতে চান, উপকারভোগীর তালিকা কীভাবে তৈরি করা হয়েছে। তখন সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সদস্যসচিব, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সদস্য হিসেবে উপকারভোগী নাম চূড়ান্ত করার জন্য কমিটিতে আছেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ সময় সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম, পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখলুছ মিয়া, পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া ও আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব খান জানান, উপকারভোগীর চূড়ান্ত তালিকা তৈরির বিষয়টি তাঁরা জানেন না।

সভায় সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘দুই বছর আগে আমি পৌরসভার মেয়র ছিলাম। আমি এ ধরনের বিষয়ে কিছু জানি না।’ পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের চেয়ারম্যান মখলুছ মিয়া বলেন, ‘আমার জানা নেই। কেউ আমাদের এ বিষয়ে অবগত করেনি।’

একইভাবে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম, পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া, আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব খান বিষয়টি জানেন না বলে অনুষ্ঠানে জানান।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তখন ইউএনও সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বছর আগে উপকারভোগী তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না। উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেছে, তা বাতিল করা যাবে না।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা তালিকা বাতিলের কথা বলছি না, আমরা এ তালিকা আবারও যাচাই-বাছাই করা যায় কি না, সবার মতামত চাই।’ তখন সবাই পরিকল্পনামন্ত্রীকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে চেক বিতরণের আহ্বান জানান। পরে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে নামের তালিকা যাচাই বাছাই করে চেক বিতরণ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ বিভাগের অন্যান্য