নগরজুড়ে আলোচনায় সাক্কু-নিজামের মিশন

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

কুমিল্লায় বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগীয় গণসমাবেশের পর নগরজুড়ে আলোচনায় সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এবং সাবেক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সারের মিশন। সমাবেশকে ঘিরে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের যে মিশন ছিল, তা কি বিফলে যাবে? এ দুই নেতার ব্যাপক শোডাউন, দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ, নানা তৎপরতা, দলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা, কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘোরাঘুরি, এসবের ফলাফল কি শূন্য? তারা কি আর দলে ফিরতে পারবেন না? তাদের কর্মযজ্ঞে কি হাইকমান্ড সন্তুষ্ট হয়নি? কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকর্মী তথা রাজনৈতিক সচেতন মহলে এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এদিকে গণসমাবেশের আগে নগরজুড়ে আলোচনায় ছিল কুসিক নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে তারা সমাবেশের মঞ্চে উঠবেন-এমন প্রত্যাশা ছিল কর্মী-সমর্থকদের। নেতাদেরও এমন ধারণা ছিল। সবশেষ এ দুই নেতার অনুকূলে জ্বলেনি কাঙ্ক্ষিত সবুজ বাতি। তাই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠেই অবস্থান করেছেন বহিষ্কৃত এ দুই নেতা।

জানা যায়, কুমিল্লায় দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপিতে রয়েছে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর মাঝে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। মূলধারার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাজী ইয়াছিন। আর সাক্কু একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন। গত কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করায় সাক্কু দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এতে সাক্কুর দুর্গে ব্যাপক ভাটা পড়ে। তাছাড়া সাক্কুর সেকেন্ড ইন কমান্ড ইউসুফ মোল্লা টিপু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের পদ লাভ করে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ফলে দলীয় রাজনীতিতে সাক্কু কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এর আগে তিনি ছিলেন সদ্য বিলুপ্ত দক্ষিণ জেলার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে বহিষ্কৃত অপর মেয়রপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছোসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির পদে। তিনি হাজী ইয়াছিনের সেকেন্ড ইন কমান্ড। দলের অভ্যন্তরে তথা তরুণ প্রজন্মের কাছে অনেক জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি কায়সার। সাধারণ নগরবাসীর কাছেও রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। তাই কর্মী-সমর্থকদের চাপে পড়ে বিগত কুসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। তবে কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে এ দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে-এমনটাই গুঞ্জন ছিল নগড়জুড়ে। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও অনেক আশা নিয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিলেন। সমাবেশে ব্যাপক শোডাউনও করেন তারা। প্রত্যাশা ছিল সমাবেশের আগেই তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সবুজ সংকেত পাবেন। এ লক্ষ্যে তারা হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে সমাবেশে যোগদান করেন। কায়সারের পক্ষে সবচেয়ে বড় শোডাউন করেন তার কর্মী-সমর্থকরা। অবশেষে তাদের পক্ষে জ্বলেনি কাঙ্ক্ষিত সবুজ বাতি। তাই সমাবেশ-পরবর্তী সময়ে সাক্কু-কায়সার দুর্গে অনেকটাই হতাশা বিরাজ করছে। নগরজুড়ে আলোচনা এখন সাক্কু-কায়সারের মিশন কি সফল হলো না? তাহলে কোন ধারায় চলবে তাদের রাজনীতি? তাদের সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকরা কি দলীয় পরিচয় পাবে না? হাইকমান্ড কি তাদের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হতে পারেনি? এমন নানা প্রশ্ন এখন নগরীতে ঘুরপাক খাচ্ছে। সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি দলের বাইরে নই, শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে এ দলে আছি। ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করছি। এখন কোথায় যাব? আমি বিএনপির কর্মী হয়েই মরতে চাই। সমাবেশের তারিখ ঘোষণার পর দলের মহাসচিব বলেছেন মাঠে কাজ করতে, তাই করেছি। কখন দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, এ নিয়ে ভাবছি না। এটা দলের সিদ্ধান্তের বিষয়।

নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, বিএনপির বাইরে কখনো চিন্তাও করি না, হৃদয়ে ধারণ করি। তারা তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান এবং দেশমাতা খালেদা জিয়াসহ বিএনপির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। সমাবেশ সফল করতে আমার ১০ হাজার কর্মী-সমর্থক কাজ করেছে। আমি নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছি, দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সমাবেশ সফল করতে মাঠে কাজ করেছি, সমাবেশের দিন হাজার হাজার কর্মীর জন্য পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য