সিলেটে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণহীন : ভাড়াটিয়াদের দুর্ভোগ চরমে

 

সিলেট নগরীতে হু হু করে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া। দ্রব্যমূল্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়তি বাড়িভাড়া শুনতে গিয়ে এখন ভাড়াটেদের নাকাল অবস্থা। বাড়িভাড়া আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় বাড়িওয়ালারা দফায় দফায় ভাড়া বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ ভাড়াটেদের। হোল্ডিং ট্যাক্সসহ নির্মাণ সামগ্রী ও ইউটিলির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বলে জানিয়েছে বাড়িওয়ালারা।

অপরদিকে বাড়িভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালাদের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি আইন সম্পর্কে ভাড়াটেদের অজ্ঞতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, প্রায় ২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সিলেট নগরীতে হোল্ডিং রয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার। এর মধ্যে বাসা-বাড়ির সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৩০হাজার। এসব বাসায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক ভাড়াটে বসবাস করলেও তাদের অনেকেই সাধারণ চাকুরীজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সময়ের প্রয়োজনে ও জীবনের তাগিদে চাকুরীজীবী মানুষগুলো ও নগরীতে বসবাস করলেও নানা অজুহাতে বিগত ১০ বছরে সিলেট নগরীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। বাড়ির মালিকদের বেশীর ভাগই প্রবাসী হওয়ায় তাদের তত্ত্বাবধায়করাই ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ভাড়াটেরা অতিরিক্ত ভাড়া প্রদানে আপত্তি জানালে তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভাড়াটেরা অনেক সময় সুবিধাজনক কোথাও বাড়িভাড়া না পেয়ে সব শর্ত মুখ বুজে মেনে নিচ্ছেন। ফলে তিন-চতুর্থাংশ ভাড়াটের আয়ের অধিকাংশই এ খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ সহ সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে না পেরে তারা এখন চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বাড়িভাড়ার উপর নির্ধারিত আইন থাকলেও আইনের ধার ধারছেনা কেউই। বাড়িভাড়া নেওয়ার সময় কোন লিখিত চুক্তি বা রশিদের মাধ্যমেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। অধ্যাদেশ অনুযায়ী বার বার বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির যে দন্ডযোগ্য অপরাধ তা জানেন না বহু ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালারা। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে এ নৈরাজ্যকর ও সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে নগরীর হাউজিং এষ্টেট, পশ্চিম পীর মহল্লাহ, জালালাবাদ, শাহজালাল উপশহর, সোবহানীঘাট, জিন্দাবাজার, সুবিধ বাজার, শিবগঞ্জ, দরগামহল্লাহ, কাজিটুলা, আম্বরখানা, বড়বাজার চৌহাট্টা এলাকায় বাসা ভাড়া অসহনীয় পর্যায়ে ছাড়িয়ে গেছে। এসব এলাকায় ৩ শয়ন কক্ষের একটু ভাল মানের বাসার বাড়া ১০থেকে ১২ হাজার টাকা এবং ২ শয়ন কক্ষের বাসা ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। আবার মাজারি মানের বাসা ৫থেকে ৭ হাজার টাকা বাড়া রাখা হচ্ছে। অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় এখানকার বাসাভাড়া তোলনামূলক ভাবে বেশী। তবে শহরতলির মেঝর ঠিলা, টুলটিকর, বালুচর মিরাপাড়া, খাদিম সহ আশপাশের এলাকায় বাসাবাড়া কিছুটা কম থাকলেও অফিস পাড়া থেকে এ স্থানগুলোর দূরত্ব বেশী। সিরাজ উদ্দিন মাস্টার যতরপুরের একটি দুপক্ষের বাসা দুবছর আগে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় ভাড়ায় উঠেন মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে চলতি জানুয়ারি মাস থেকে দিতে হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে।

এ বিভাগের অন্যান্য