খুচরায় সয়াবিনের দাম কমেনি, চিনিতেও বাড়তি

 

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে সর্বোচ্চ ১৭ টাকা কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এই নতুন দর কার্যকর করার কথা থাকলেও খুচরায় কমেনি তেলের দাম। এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। এদিকে সরকার চিনির দর বেঁধে দিলেও সেই দরে বিক্রি হচ্ছে না। সরকারি দরের চেয়ে অন্তত ৬ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে চিনি। বিক্রেতারা  দাবি করেন, তাদের বাড়তি দামেই তেল, চিনি কিনতে হয়েছে। এ জন্য বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আর ভোক্তারা বলছেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হলে খুচরা বিক্রেতারা সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু দাম কমানো হলে তার সুবিধা পেতে অনেক সময় লেগে যায়।  সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন সয়াবিন তেলের দাম কমিয়ে নতুন দর ঘোষণা করে।

ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা কমিয়ে ১৭৮ টাকা করা হয়েছে। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭ টাকা কমিয়ে ১৫৮ টাকা করা হয়েছে। এই দর মঙ্গলবার থেকে কার্যকর করার কথাও বলেছিল এসোসিয়েশনটি। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, সয়াবিন তেলের নতুন দর কার্যকর হয়নি।

বাজার ও বিভিন্ন মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০-১৯২ টাকায়। আর খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৪-১৭৫ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তারা যে তেল কিনেছেন সেগুলো বাড়তি দরেই কেনা। এসব তেল শেষ হলে নতুন দরের তেল ফরমায়েশ দিবেন। এ জন্য এখনো বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যথায় তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।  কদমতলা রাজারবাগের আল্লাহর দান ভ্যারাইটিজের স্বত্বাধিকারী শাহিন কবির বলেন, গত সোমবার কোম্পানি তেল দিয়ে গেছে। সেগুলো নতুন দামে দেয়নি। তেলের দাম কমতে পারে তাও জানানো হয়নি। আমরা কিনে রেখেছি। এখন শুনলাম দাম কমানো হয়েছে। এখন এই তেল শেষ না হলে নতুন তেল কীভাবে বিক্রি করবো। আল মদিনা সুপার শপের স্বত্বাধিকারী বলেন, এক লিটার তেলে আমাদের লাভই হয় ৪-৫ টাকা। এখন নতুন দামে বিক্রি করলে আমাদের এক লিটারে ১০ টাকা করে লস হবে। বোতলের ১৯২ টাকা রেট লেখা। কিছু তেল আছে। এগুলো বিক্রি শেষ করে নতুন তেল অর্ডার দিবো। এর আগে কমে বিক্রি করলে অনেক টাকা লস হয়ে যাবে। এদিকে গত ২২শে সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে চিনির দাম বেঁধে দেয়ার কথা জানায় বিটিটিসি। প্রতিকেজি খোলা চিনিতে ৮৪ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনিতে ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এই দাম কার্যকর করার কথা ছিল গত ২৫শে সেপ্টেম্বর থেকে। তবে খুচরা বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে নির্ধারিত দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে না। নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৬ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি খোলা চিনি ৯০-৯২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর বড় বাজারের কিছু দোকানে ৮৯-৯০ টাকায় প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লায় ৯২-৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খিলগাঁও কাঁচাবাজারের দোকানি জোবায়ের বলেন, আমি চিনি বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছি। চিনির দাম বেশি কেনা পড়ে। এককেজি চিনি আমাদের কিনতেই ৮৭ টাকা লাগে। আর সরকার রেট দিয়েছে ৮৪ টাকা। এজন্য চিনি বিক্রি করি না ৪-৫ দিন ধরে। বেশি দামে বিক্রি করলে ঝামেলায় পড়তে হয়। মালিবাগের মুদি দোকানি সুমন মিয়া বলেন, আমরা ৯০ টাকা চিনি বিক্রি করছি। ৯০ টাকা বেচলেও লাভ হয় না। আমাদের কেনাই পড়ে ৮৭-৮৮ টাকা। দাম কমানোর ঘোষণা দেয়ার পরও বাজারে সময়মতো তার কোনো প্রভাব পড়ে না বলে উল্লেখ করছেন ভোক্তারা। তারা বলছেন, দেশে কোনো কিছুর দাম বাড়ানো হলে তা সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। কিন্তু কমানো হলে তা কমতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে দাম কমানোর প্রকৃত সুবিধা ভোক্তারা পায় না।

রাজারবাগ বাজারে তেল কিনতে আসা কবির মিয়া বলেন, তেলের দাম বাড়ার সময় দেখলাম একসঙ্গে সব দোকানে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু গতকাল টিভিতে দেখলাম তেলের দাম ১৪ টাকা কমানো হয়েছে। কিন্তু দোকানদাররা বলছে কম দামি তেল এখনো আসেনি। এ জন্য বেশি দাম দিয়েই কিনতে হলো। রোকসানা পারভিন বলেন, এমনি কোনো কিছুর দাম বাড়লে কমে না। তারমধ্যে যদিও কিছু জিনিসের দাম কমানোর কথা বলা হয় তার প্রভাব পড়তে পড়তেই সময় লেগে যায়। এগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা উচিত। নইলে আমরা সুবিধা পাবো না।  বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল-জুন সময়ে বিশ্ববাজারে চিনির দাম ছিল প্রতি টন ৪৩০ মার্কিন ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ৩৯০ ডলারে নামে। বিপরীতে এ সময়ে বাংলাদেশে দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এই সময়ে দেশে ডলারের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার টনের মতো দেশীয় আখ থেকে উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি করা হয়। দেশীয় কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে পরিশোধন করে বাজারে ছাড়ে। এদিকে এর মধ্যেই সমপ্রতি চিনির দাম আরও বাড়াতে ট্যারিফ কমিশনে আবেদন করেছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স এসোসিয়েশন।

এ বিভাগের অন্যান্য