বিয়ের কথা বলে সম্পর্ক ছাত্রলীগ নেতার, পরে ব্ল্যাকমেইল

সিলেটের সময় ডেস্কঃ

পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন। এরপর অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন। ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি হোসাইন মো. আফজালের (৩১) বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন এক তরুণী।

১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় আফজালের বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আফজাল ময়মনসিংহের তালতলা উপজেলার খাগডহর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে মিরপুর এলাকায় বাস করছেন। ওই তরুণী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন।

 

থানায় করা জিডি ও ওই তরুণী সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে পড়াশোনা সূত্রে ময়মনসিংহে তরুণীর সঙ্গে আফজালের পরিচয়। তারপর প্রেম। এরপর পড়াশোনার জন্য তরুণী ঢাকায় চলে আসেন। ২০১৮ সালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন আফজাল। এর পর থেকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ওই তরুণীর সঙ্গে তোলা ছবি ও ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে (ব্ল্যাকমেইল) বারবার একই কাজ করতে থাকেন আফজাল।

তরুণীর ভাষ্য, বিয়ের কথা বললে ক্যারিয়ারের ক্ষতি হবে অজুহাতে আফজাল এড়িয়ে যান এবং সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

তরুণীর অভিযোগ, এর মধ্যে আফজাল অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান। বিষয়টি জানার পর ওই তরুণী আফজালকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তখন আফজাল তাঁদের একসঙ্গে কাটানোর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেন।

তরুণী বলেন, ‘আফজাল আমার সঙ্গে দিনের পর দিন প্রতারণা করেছে। ব্ল্যাকমেইল করছে শারীরিক সম্পর্ক করতে। আমার জীবন দুঃর্বিষহ করে তুলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এসবের অনেক প্রমাণ আমার ফোনে আছে। ওর বড় ভাই ও ছাত্রলীগের বড় ভাইদের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। তাই থানায় জীবনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে জিডি করেছি। ’

তিনি বলেন, ‘আফজালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। ছাত্রলীগে কোনো নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির স্থান হতে পারে না। ’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আফজাল বলেন, ‘২০১৮-১৯ সালের দিকে আমার সঙ্গে তার (ওই তরুণী) একটা সম্পর্ক ছিল। পরে ভেঙে গেছে। এখন সে যেসব কথা বলছে, সেসব মিথ্যাচার। জিডির বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় যোগাযোগ করেছি। ’

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জিডির বিষয়ে সর্বশেষ আপডেট আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে। ’

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ আগে শুনেছিলাম। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আমি স্পষ্ট না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মানবসম্পদ বিষয়ক উপসম্পাদক ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন অপু কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য