আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল সেই জুয়েলের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

সিলেটের সময় ডেস্ক :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতার ওপর হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল হওয়া সেই যুবলীগ ‘ক্যাডার’ মনিরুজ্জামান জুয়েলের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান। মনিরুজ্জামান জুয়েল উপজেলার নালঘর গ্রামে প্রয়াত আলী আকবর মজুমদারের ছেলে।

গত ৭ আগস্ট এক অফিস আদেশে ভাইরাল হওয়া অস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিল করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তবে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে মঙ্গলবার রাতে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমাও একই তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জেলা বিশেষ শাখা, কুমিল্লার গত ২১ জুলাই তারিখের ৭৫৪৮ নম্বর স্মারকের পর্যালোচনায় দেখা যায় চৌদ্দগ্রাম থানার গত ১৬ জুলাই তারিখের জিডি নম্বর ৬৮১ এবং ১৯ জুলাই তারিখের স্মারক নম্বর ৮০৯৯ জিডি মূলে মোস্তফা মনিরুজ্জামান জুয়েল তার নিজ মালিকীয় আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নম্বর-১৫৪৭/জেঃ প্রঃ/কুমিল্লা মূলে গত ১৪ জুলাই তারিখে অস্ত্র হাতে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচকভাবে ভাইরাল হয়। মোস্তফা মনিরুজ্জামান জুয়েল বর্ণিত অস্ত্র প্রদর্শনপূর্বক সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় তার মালিকীয় আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য মতামত প্রদান করা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০১৬ এর অনুচ্ছেদ ২৫(ক) এবং অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এর ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী তার অনুকূলে কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইতোপূর্বে ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটির লাইসেন্সটি বাতিল করা হলো।

গত ১৪ জুলাই বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে। শাহজালাল মজুমদারের দাবি, মনিরুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর ইউনিয়নের নালঘর বাজারের ওই হামলায় শাহজালাল মজুমদার ও তাঁর গাড়িচালক আমজাদ হোসেন আহত হয়েছেন। এ সময় শাহজালাল মজুমদারের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হামলার ঘটনার পর জুয়েলের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের দু’টি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, মনিরুজ্জামান জুয়েল একই উপজেলার মিয়াবাজারস্থ গ্রীণ ভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে একটি মেশিনগান একহাতে নিয়ে আরেক হাতে সিগারেট টানছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা যায় জুয়েল অস্ত্র হাতে হেঁটে যাচ্ছেন।

এদিকে, গত ১৭ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ। জুয়েলের বিরুদ্ধে আগের তিনটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পর দিন ১৮ জুলাই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ। বর্তমানে জুয়েল কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। শাহজালাল মজুমদারও তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় জুয়েলকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

প্রসঙ্গত, যুবলীগ নেতার ওপর হামলার পর অস্ত্রসহ ছবি ভাইরাল হওয়া জুয়েলের সেই আগ্নেয়াস্ত্রটি গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। মনিরুজ্জামান জুয়েলের স্ত্রী ফারজানা হক ৮৬ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্রটি জমা দেন। মনিরুজ্জামান জুয়েল এলাকায় নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে শাহজালাল মজুমদারের দাবি, জুয়েল একজন ‘ক্যাডার’। যুবলীগে তার প্রাথমিক সদস্য পদও নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য