বিনা পয়সার খেলোয়াড়ে বদলে যাওয়া ফুটবল

খেলাধুলা ডেস্ক ঃ

প্রথম প্রস্তাব ১৫০ মিলিয়ন ইউরো। কিছুটা বাড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদ করল ১৮০ মিলিয়ন। পিএসজি তাতেও রাজি নয়। এরপর শেষ প্রস্তাব ২০০ মিলিয়ন ইউরো।

নাছোড়বান্দা পিএসজি আমলে নেয়নি একটিও। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে শেষ পর্যন্ত ছাড়েনি তারা। রিয়াল মাদ্রিদ অধৈর্য হয়নি। শান্ত থেকে অপেক্ষা করেছে আরো একটি মৌসুম। তারা জানত, ২০২২ সালের জুনে শেষ হচ্ছে এমবাপ্পের চুক্তির মেয়াদ। এরপর বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি হয়ে যাবেন বিনা পয়সার ফুটবলার। সম্মানজনক সাইনিং বোনাস দিয়ে তখন এমনিই পাওয়া যাবে তাঁকে।

তবে এমবাপ্পের মা ফাইজা লামারি আর আইনজীবী দেলফানির সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতেই প্রথম ধাক্কাটা খায় রিয়াল। দেলফানি আলোচনাই শুরু করেন এভাবে, ‘আপনারা তো ২০০ মিলিয়ন দিতে চেয়েছিলেন পিএসজিকে। তাহলে আমাদেরও সেটা দিন। ’ রিয়াল কর্তারা রসিকতা ভেবেছিলেন শুরুতে। কিন্তু দেলফানি অনড় থাকায় দরদামে যান তাঁরা। ১০০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত রাজি হয় রিয়াল। আলোচনার সেখানেই ইতি।

পিএসজি এটা জানতে পেরে চুক্তি নবায়নে প্রস্তাব দেয় ১৫০ মিলিয়ন ইউরো। নড়েচড়ে বসে রিয়াল। প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিতো পেরেজও রাজি হন ১৫০ মিলিয়ন পর্যন্ত। এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি পিএসজি। এক ধাক্কায় অংকটা দ্বিগুণ করে পাঠায় ৩০০ মিলিয়ন সাইনিং বোনাসের প্রস্তাব! রিয়াল সমর্থকরা বুঝে যান, বিনা পয়সার হলেও মুফতের খেলোয়াড় নন এমবাপ্পে। অবিশ্বাস্য অঙ্কের প্রস্তাবে পিএসজিকে আর ‘না’ করতে পারেননি এমবাপ্পে।

শুধু এমবাপ্পেই নন, চুক্তি শেষ হওয়া ‘বিনা পয়সার ফুটবলাররা’ বদলে দিয়েছেন ফুটবলের দলবদলের বাজারটাই। ক্লাবকে বাড়তি টাকা দিতে না চেয়ে নিজেরা দরদাম করছেন নিজেদের। ফিফার হিসাবে করোনার এই ক্রান্তিকালে ২০২০ সাল থেকে ৬৩ শতাংশ ফুটবলার ক্লাব বদলেছেন ‘ফ্রি এজেন্ট’ হয়ে। তাই নিকট ভবিষ্যতে নেইমারকে ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কেনার মতো ঘটনা হয়তো ঘটবে না আর।

আন্তোনিও রুডিগারের কথাই ধরুন। চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার কোনোভাবে রাজি হননি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে। পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ তাঁকে পেতে প্রতিনিধি পাঠায় কয়েক দফা। শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করেন এই জার্মান। সাইনিং বোনাস হিসাবে রিয়াল তাঁকে দিয়েছে ৩৫ মিলিয়ন ইউরো। চার বছরের চুক্তিতে সব মিলিয়ে রিয়াল থেকে পাবেন ৯০ মিলিয়ন ইউরো। অথচ চেলসি পাচ্ছে না এক কানাকড়ি।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে আর্লিং হালান্ডের রিলিজ ক্লজ ছিল ৬৪ মিলিয়ন পাউন্ড। রিয়াল মাদ্রিদ নজরে রেখেছিল তাঁকে। এমবাপ্পের আশায় শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়নি তারা। তাই ৫১ মিলিয়ন পাউন্ডেই ম্যানসিটি পেয়ে গেছে হালান্ডকে। রিয়াল এবার প্রস্তাব না করলেও ভবিষ্যতে যে করবে না, এর নিশ্চয়তা কী? নিজের পারফরম্যান্সের গ্রাফ উন্নত হলে রিয়ালের মতো আরো অনেক ক্লাব পেতে চাইবে হালান্ডকে। সেটা বুঝে চুক্তির তৃতীয় বছরে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ রেখেছেন হালান্ড নিজে! মানে বদলে যাওয়া ফুটবলে খেলোয়াড়রা এতটা শক্তিশালী যে রাখতে পারছেন ইচ্ছামতো রিলিজ ক্লজও। মানতেই হবে এই পরিবর্তনটা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য