গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে বইছে নির্বাচনী হাওয়া

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। গোলাপগঞ্জে ১৫ই জুন অনুষ্ঠিত হবে পৌর নির্বাচন। একই দিনে বিয়ানীবাজারের পৌর নির্বাচনও হবে। এই দু’টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ। তবে- বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে বর্ধিত সভা করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার দু’টি উপজেলায়ই বর্ধিত সভা করে। এসব সভায় আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিতে পারেননি। এর মধ্যে গোলাপগঞ্জ উপ-নির্বাচনে ১০ জন ও বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থীর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন- বর্ধিত সভায় যাদের নাম এসেছে সবার নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে

কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন- নৌকা যে পাবে তার পক্ষেই সবাই মাঠে সক্রিয় থাকবে। বর্ধিত সভা করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন- বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা নৌকার মনোনয়ন পেতে প্রস্তাব পেশ করেন। পরে তৃণমূলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নৌকার প্রার্থী নির্বাচন না হওয়ায় এই ১০ জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন ইসলাম কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর শাফি চৌধুরী এলিম, সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, শাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজিরা বেগম শীলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী ফখর, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ আহমদ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব জোয়ারদার মছুফ। উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র ব্যানারে কোনো প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসেনি। তবে- জামায়াতে ইসলামীর স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে- এখনো জামায়াতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এদিকে- বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে প্রার্থীও একাধিক। ইতিমধ্যে ৬ জন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন- বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস শুকুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস টিটু, আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল ইসলাম, ফারুকুল হক ও পাবেল মাহমুদ। স্থানীয় সূত্র জানায়- বিগত দিনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ঘটনায় বিতর্কিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র আব্দুস শুকুর। এমনকি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল।

এসব অভিযোগের তদন্তও হয়েছে। এছাড়া- স্থানীয় ভাবে বলয় সৃষ্টি করে দলের ভেতরে বিভক্তি সৃষ্টি করায় আব্দুস শুকুর এবার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এ পৌরসভায় স্বতন্ত্র ব্যনারে বিএনপি মাঠে রয়েছে। তারা এলাকা ভিত্তিক সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। তবে- জেলা বিএনপি’র নেতারা এ ব্যাপারে নীরব। কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ার কারণে বিএনপি’র তরফ থেকে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে না। স্বতন্ত্র ব্যানারে পদবিধারী কেউ নির্বাচনে গেলে তার বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ পৌরসভায় প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন- পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু নাসের পিন্টু, জামায়াত ঘরানার প্রার্থী প্রভাষক আব্দুস সামাদ ও সমাজসেবক আব্দুস সবুর। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আহবাব হোসেন সাজু ও মোহাম্মদ অজি উদ্দিন। সাবেক পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন প্রার্থী হচ্ছেন। বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ই মে, বাছাই ১৯শে মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ২৬শে মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭শে মে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ই জুন।

এ বিভাগের অন্যান্য