বাজারে সরবরাহ বেড়েছে সয়াবিন তেলের

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

ঈদের প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যায়। তখন থেকেই চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছিল না ভোক্তারা। এরই মধ্যে তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর পরও বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছিল না।

তবে গতকাল রবিবার থেকে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরাও বলছেন, চাহিদামতো সয়াবিন তেল সরবরাহ করতে শুরু করেছে কম্পানিগুলো। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত শনিবার থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের মেসার্স জেনারেল স্টোরের ব্যবসায়ী মাসুদ মাহমুদ গতকাল বলেন, ‘আজ (গতকাল) চারটি কম্পানি নতুন দামে আমাদের চাহিদামতো তেল দিয়ে গেছে। কম্পানিগুলো আমাদের বলেছে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, তেলের কোনো সমস্যা নেই। অর্ডার দিলেই তেল দিয়ে যাবে। ’

রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের ভাই ভাই স্টোরের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় ২০ দিন পর আমার দোকানে আজ (কাল) সয়াবিন তেল দিয়েছে কম্পানি। আমাকে দুই লিটার ও পাঁচ লিটারের বোতলের ৭০ কার্টন সয়াবিন তেল দিয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘শুধু আমাকেই না,

বাজারের প্রত্যেকটি দোকানে তেল দিয়ে গেছে কম্পানিগুলো। এখন থেকে ক্রেতাদের আর তেল কিনতে এসে না পেয়ে ফিরে যেতে হবে না। ’ সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘গত শনিবার থেকেই নতুন দামে সয়াবিন তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত তেল থাকায় ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ’

আগের তেল বেশি দামে বিক্রি, জরিমানা

বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর পর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগের মজুদ করা বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন নতুন দামে। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিশেষ অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় আইন লঙ্ঘনের দায়ে শাহ মিরন জেনারেল স্টোরকে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল, ফাহমিনা আক্তার ও মো. মাগফুর রহমান।

আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, আগের কেনা বোতলজাত সয়াবিন তেল যেখানে মূল্য লেখা আছে ১৬০ টাকা, কিন্তু বর্তমান দর ১৯৮ টাকায় বিক্রি করছে। এই অপরাধে কিচেন মার্কেটের শাহ মিরন জেনারেল স্টোরকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ফটিকছড়িতে ২৩২৮ লিটার উদ্ধার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে দুই হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত শনিবার রাতে ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আলমগীর। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মজুদকৃত তেল খোলাবাজারে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগের দামে বিক্রি

চট্টগ্রাম মহনগরীর একটি দোকানের গোপন গুদামে মজুদ করে রাখা এক হাজার ৫০ লিটার তেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সয়াবিন তেল ভাউচার দেখে আগের দামে উপস্থিত ক্রেতা ও খুচরা দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে নগরীর ষোলশহরে কর্ণফুলী মার্কেটের মেসার্স খাজা স্টোরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালায়। অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ জানান, কর্ণফুলী মার্কেটে খাজা স্টোরে দোকানের মেঝের মধ্যে পাটাতন দিয়ে আড়াল করে গোপন কুঠুরি বানিয়ে রাখা এক হাজার ৫০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে তেল মজুদের দায়ে খাজা স্টোরের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা সয়াবিন তেলগুলো ভাউচার দেখে আগের দামে উপস্থিত ক্রেতা ও খুচরা দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে সরবরাহ

ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন উপজেলা সদর বাজারে রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের ডিলার মো. রহমত উল্লাহর গুদামে অভিযান চালিয়েছেন ইউএনও তানজিলা কবির ত্রপা। গত শনিবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ তেল পাওয়া যায়। আদালত রহমত উল্লাহকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং মজুদকৃত তেল দ্রুত বাজারে বিক্রির নির্দেশনা দেন। এদিকে তীর সয়াবিন তেলের ডিলার মো. ইউসুফ দেওয়ানের গুদামেও বিপুল পরিমাণ তেল পাওয়া যায়। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা  ও মজুদকৃত তেল তাত্ক্ষণিকভাবে বাজারে সরবরাহ করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য