ঈদের দিন বিকেলে বোয়ালমারীতে প্রতিপক্ষের হামলায় দুজনের মৃত্যু

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী-চরদৈতরকাঠি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একপক্ষের দুজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে গোহাইলবাড়ি শামচু মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। আহতদের মধ্যে রাজিবুল ইসলাম (৩০), কাদের মোল্যা (৪০), সোহেল শেখকে (২০) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মাসুদ আহমেদ (৪০) ও আলমগীর আহমেদসহ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী-দৈতরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকীর সঙ্গে গোহাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মরহুম বজলু খালাসির ছেলে আরিফ হোসেনের দীর্ঘদিন আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝামেলা চলছিল। গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় গোহাইলবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নিয়ে মোস্তফা জামানের ও আরিফের দুই প্যানেলে নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোস্তাফার প্যানেল বিজয়ী হয়ে পুনরায় তিনি (মোস্তফা) ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এর পর থেকে দুজনের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এর আগে থেকেই মোস্তফার বাবা ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন স্থানীয় গোহাইলবাড়ি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদ ও আরিফ হোসেনের বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলু খালাসির মধ্যে বিরোধ চলছিল।

হামলার সময় আরিফ হোসেনের বড় ভাই শরীফ হোসেন ঈদের ছুটিতে বাড়ি ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। শরীফ হোসেন গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকা ত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে দুপুর ২টার দিকে মোস্তফা জামানসহ কয়েকজন গোহাইলবাড়ি বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজলু খালাসির ছেলে আরিফের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল মোস্তফা জামানের লোকজনকে ঘিরে ফেলে রামদাসহ লাঠিসোঁটা দিয়ে কুপিয়ে চলে যান বলে বীরমুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদ জানান। এতে মোস্তফার আপন দুই ভাই মাসুদ আহমেদ (৪০) ও আলমগীর আহমেদসহ আকিদুল মোল্যা (৪৬) ও খাইরুল মোল্যাকে (৪৭)  গুরুতর আহত অবস্থায় বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে আকিদুলকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খায়রুল শেখ, মাসুদ আহমেদ ও আলমগীর আহমেদসহ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। খায়রুল শেখ ফরিদপুর নেওয়ার পথে মারা যান। নিহত দুজনের লাশ বর্তমানে বোয়ালমারী থানায় নেওয়া হয়েছে।

মোস্তফা জামানের প্রতিপক্ষ আরিফ হোসেনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. আতোষি বলেন, হাসপাতালে আসার আগেই আকিদুলের মৃত্যু হয়েছে। খাইরুলসহ আরো কয়েকজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলায় আকিদুল ও খাইরুল নামে দুজন নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল এলাকায় পুলিশের তিনটি টিম কাজ করছে। অভিযান চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য