পাওনা টাকা চাওয়ায় দেবরের হাতে খুন প্রবাসীর স্ত্রী

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় সৌদি প্রবাসী জাহিদ হোসেন ময়নালের স্ত্রী লিমা আক্তারকে (২৮) খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের আট দিনের মাথায় অভিযুক্ত ওয়াসিমকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওয়াসিম সম্পর্কে লিমা আক্তারের দেবর। স্বামীকে না জানিয়ে ওয়াসিমকে আড়াই লাখ টাকা ধার দিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন লিমা।

বুধবার (২০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে বাহিনীর বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১২ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার বাংড়া পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন সৌদি আরব প্রবাসী জাহিদ হোসেনের স্ত্রী লিমা আক্তার। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে। ১৯ এপ্রিল রাতে আশুলিয়া থেকে ওয়াসিম নামে এক ট্রাক চালককে গ্রেফতার করে সিআইডি।

যে কারণে হত্যা ঃ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লিমাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ওয়াসিম। প্রাথমিকভাবে সে সিআইডিকে বলেছে, সে পেশায় একজন ট্রাকচালক। গাড়ি চালিয়ে যে টাকা উপার্জন হয়, তা দিয়ে সে জুয়া খেলে। তার সংসার চালাতে কষ্ট হয়। সে জন্য প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী জাহিদ হোসেনের স্ত্রী লিমা আক্তারের কাছ থেকে প্রায়ই টাকা ধার নিতো। কিন্তু পরিশোধ করতো না।

তার কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ধার নিয়েছে ওয়াসিম। কিন্তু এক টাকাও ফেরত দেয়নি। লিমার স্বামী জাহিদ হোসেন শিগগিরই দেশে আসার কথা রয়েছে। দ্রুত টাকা ফেরত না দিলে তার সংসারে ঝামেলা হবে। এ নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে একাধিকবার লিমার ঝগড়া হয়।

মুক্তা ধর জানান, পাওনা টাকা ফেরত না দিলে ওয়াসিমের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ বসানো এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলে ভয় দেখায় লিমা। এতে ক্ষিপ্ত হয় ওয়াসিম। সে ‘অপমানের’ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল রাতে ওয়াসিম লিমা আক্তারের ঘরের সামনে যায়। সে পাওনা টাকা নিয়ে এসেছে এবং দরজা খুলে টাকা নেওয়ার জন্য লিমাকে বলে।

লিমা আক্তার দরজা খুললে সে তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। তার হাতে থাকা ইট দিয়ে লিমা আক্তারের মাথা বরাবর আঘাত করলে লিমা মাটিতে পড়ে যায়। তখন ঘরের মধ্যে থাকা লিমার ৪ বছরের শিশুসন্তান তাওহীদ চিৎকার করতে থাকলে ওয়াসিম দ্রুত ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

শিশু তাওহীদের চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা তার দাদা মো. জোয়াহের আলী মিয়া বের হয়ে লিমার ঘরের দিকে যায়। এ সময় ওয়াসিমকে দেখতে পেয়ে তাকে ঝাপটে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। ওয়াসিম তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে পালিয়ে যায়। সৌজন্যে: বাংলাট্রিবিউন।

এ বিভাগের অন্যান্য