বায়তুল মোকাররমে প্রতিদিন ইফতার করেন হাজারো মুসল্লি

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র রমজান মাস এলেই এক অন্য রকম আবহের সৃষ্টি হয়। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত আর জিকির-আজকারে সারা দিনই মুখর থাকে দেশের প্রধান এই মসজিদ। সন্ধ্যায় ইফতারের সময় এ মসজিদে কমবেশি সব শ্রেণির হাজারো রোজাদার মুসল্লি এক কাতারে বসে ইফতার করেন। গতকালও চিরপরিচিত এই দৃশ্যের দেখা মিলল।

গতকাল আসরের পরপর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, নামাজ আদায় করেই মসজিদের দক্ষিণ অংশে আজানঘরের সামনে মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েছেন। বসে বসে কেউ নিঃশব্দে তসবিহ জপছেন, কেউ বা মৃদু স্বরে করছেন জিকির। পাশেই একদল মানুষ ইফতার প্রস্তুত করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কথা বলে জানা গেল, তাঁরা সবাই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির স্বেচ্ছাসেবক। আসরের নামাজের পরপরই তাঁরা ইফতারি গোছানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

মুসল্লি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানিক বললেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি গঠনের পর এই রমজান থেকে প্রতিদিন ৭০০ মানুষকে ইফতার করানো হচ্ছে। মুসল্লি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এই ইফতারের যাবতীয় খরচ বহন করছেন। ’

মিজানুর রহমান আরো বললেন, স্থানীয় লোকজন ছাড়াও দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ বায়তুল মোকাররমে নামাজ আদায় করেন। রমজানের সময় অনেকে বুঝতে পারেন না কোথায় ইফতার করবেন। বহু মানুষ আছেন সামর্থ্যহীন। তাঁদের সবার জন্যই কমিটির এই ব্যবস্থা।

মুসল্লি কমিটির সভাপতি হাজি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সায়েম সোবহান আনভীর সাহেব নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন পানিসহ ৭০০ প্যাকেট ইফতারি এখানে পাঠিয়ে দেন। সাধারণ মুসল্লি থেকে শুরু করে ছিন্নমূল নারী-পুরুষ সবাই এখানে ইফতার করছেন। ’

হাজি ইয়াকুব আলী বললেন, ‘মক্কা-মদিনায় রমজান মাসে রোজাদারদের যে আতিথেয়তা করতে দেখা যায়, আমরা চাই বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদেও তেমন সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। এবার ছোট করে শুরু করেছি, ভবিষ্যতে এটিসহ আরো নানা ধরনের কাজ বিস্তৃতভাবে করার আশা রাখি। ’

মসজিদের দক্ষিণ দিকের খোলা অংশে আরেকটি দলকে ইফতারি প্রস্তুত করতে দেখা গেল। এখানকার একজন জানান, ধর্মীয় বক্তা হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে আজ থেকে ৩০ বছর আগে প্রথম ছোট পরিসরে এখানে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল। এই উদ্যোগে এরপর আরো আট-দশজন ব্যবসায়ী মুসল্লি নিজেদের যুক্ত করেছেন।

ইফতারের সামান্য আগে মসজিদের পূর্ব অংশে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ইফতারি সাজানো নিয়ে খুব ব্যস্ত বায়তুল মোকাররম মসজিদের তাবলিগের সাথি ও ব্যবসায়ীরা। এখানে তাবলিগ জামাতের বায়তুল মোকাররম মসজিদ শাখার আমির আবদুল গাফ্ফার জানান, মসজিদের এই অংশে তাঁদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন ৬০০ জন রোজাদার ইফতার করেন।

তাবলিগের নিয়ম অনুযায়ী এক থালায় অনেকের ইফতার করার কথা থাকলেও করোনা মহামারির জন্য এবার এক থালায় ইফতার করতে দিচ্ছেন না আয়োজকরা। আলাদা ছয়টি প্যাকেট নিয়ে একেকটি দস্তরখানায় ছয়জন ভাগ হয়ে বসে ইফতার করতে বসছেন।

প্রতিবছর হাজার দেড়েক মানুষকে সরকারিভাবে মসজিদে ইফতার করায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। কিন্তু মহামারির কারণে গত দুই রোজার মতো এবারও তারা ইফতারের আয়োজন করেনি। তবে এবার ফাউন্ডেশনের ইফতারির ব্যবস্থা না থাকলেও সরেজমিনে ঘুরে মনে হয়েছে, সাধারণ মুসল্লি, আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা পথচারীদের ইফতারির কোনো কমতি হচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষ আগের মতোই এক কাতারে বসে ইফতার করছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য