মুখ দিয়ে প্রকাশিত পাপ সমুহ

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

আমাদের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা গুনাহ সংঘটিত হয়, তার মধ্যে মুখ অন্যতম। মহান আল্লাহর এই মহামূল্যবান নিয়ামত দিয়ে যেমন তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা ও বহুবিধ নেক আমলের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করা যায়, তেমনি এই অঙ্গের অপব্যবহারের কারণে মানুষের জন্য জাহান্নামও অবধারিত হয়ে যায়। নিম্নে মুখ দ্বারা সংঘটিত কিছু জঘন্য কবিরা গুনাহ তুলে ধরা হলো—

মিথ্যাচার : মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের মুখকে মিথ্যা বলার জন্যই বেশি ব্যবহার করে।

সমাজের সর্বত্রই মিথ্যাচারের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। অথচ মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতদের এই জঘন্য কবিরা গুনাহের কাজটি থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। আবু বাকরাহ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের সব থেকে বড় গুনাহ সম্পর্কে সতর্ক করব না? আমরা বললাম, অবশ্যই সতর্ক করবেন, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে অংশীদার গণ্য করা, মা-বাবার নাফরমানি করা। এ কথা বলার সময় তিনি হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর (সোজা হয়ে) বসলেন এবং বলেন, মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, দুবার করে বলেন এবং ক্রমাগত বলেই চললেন। এমনকি আমি বললাম, তিনি মনে হয় থামবেন না। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৬)
গালমন্দ : গালমন্দ ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্যতম অপরাধ। কোনো মুমিনের মুখে গালমন্দ শোভা পায় না। মহানবী (সা.) এই কাজটি ফাসিকি আখ্যা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তাকে হত্যা করা কুফরি। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪)

চোগলখুরি : কারো কাছে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে, নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে, অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও স্বার্থ হাসিল করতে একজনের কথা অন্যজনের কাছে গিয়ে বলে বেড়ানোকে চোগলখুরি বলে। চোগলখোররা সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে সাজানো কথামালা দিয়ে মানুষের কান ভারি করে, তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি কবিরা গুনাহ। পরকালে এর জন্য কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বলেন যে এই দুজন ব্যক্তিকে আজাব দেওয়া হচ্ছে কোনো বড় অপরাধের জন্য নয়; বরং তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না, আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল নিয়ে তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে একটি করে গেড়ে দিলেন। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনি এরূপ কেন করলেন? তখন তিনি বলেন, হয়তো এগুলো শুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত এদের আজাব লাঘব করা হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ২০৬৯)

পরনিন্দা : মুখ পরনিন্দার অন্যতম হাতিয়ার। যা ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ কবিরা গুনাহ। পরকালে পরনিন্দাকারীদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মিরাজের রাতে আমি এমন এক কওমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, যাদের নখগুলো তামার তৈরি এবং তা দিয়ে তারা অনবরত তাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে আঁচড় মারছে। আমি বললাম, হে জিবরাইল, এরা কারা? তিনি বলেন, এরা সেসব লোক, যারা মানুষের গোশত খেত (গিবত করত) এবং তাদের মানসম্মানে আঘাত হানত। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৭৮)

অপবাদ : মুখ দ্বারা যেসব কবিরা গুনাহ সংঘটিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম আরেকটি হলো, অপবাদ। মানুষকে সুযোগ পেলেই অন্যকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বিপদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে, যা জঘন্য অপরাধ। যারা এ ধরনের কাজ করে, তারা দুনিয়া-আখিরাতে অভিশপ্ত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা সচ্চরিত্রবান সরলমনা মুমিন নারীদের ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য (আখিরাতে) আছে মহা শাস্তি। ’ (সুরা: নুর, আয়াত : ২৩)

অভিশাপ : মানুষের সঙ্গে কটু ভাষায় কথা বলা বা অভিশাপ দেওয়া জঘন্যতম অপরাধ। কোনো মুমিনের জন্য এই কাজে লিপ্ত হওয়া সমীচীন নয়। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিস্পাতকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)

এ বিভাগের অন্যান্য