খুবির আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ড্রইং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক বিটপ শোভন বাছাড়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে যৌন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। তাঁরই ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন বর্ষের মোট ২২ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে এ অভিযোগ করেছেন।

এরই মধ্যে (৩ এপ্রিল) অভিযোগ আমলে নিয়ে চিঠি দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে তারই এক নারী সহকর্মীর করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সাড়ে ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচারের মুখ দেখেনি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড্রইং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের অভিযুক্ত শিক্ষক বিটপ শোভন বাছাড় বিভিন্ন সময় ডিসিপ্লিনের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করে আসছিলেন। তিনি নারী শিক্ষার্থীদেরকে পর্ন ভিডিও দেখে নিজেদের নগ্ন ছবি তুলে ওই শিক্ষককে পাঠাতে বলতেন। এছাড়া ফিগার পেইন্টিং এর জন্য তিনি প্রায়ই নারী শিক্ষার্থীদেরকে আলাদাভাবে ডাকতেন মডেল হবার জন্য। আর তার প্রিয়পাত্র না হলে তিনি তাদেরকে একাডেমিকসহ কোন বিষয়েই তিনি সহযোগিতা করতেন না। হয় তাদের ফোন কেটে দিতেন অথবা রিসিভ করতেন না।

এছাড়া তার পছন্দের তালিকায় থাকা নারী শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্নভাবে নিজেকে গুরু মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করতেন এবং যেসব শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের শিষ্যত্ব গ্রহন করবে তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেবার প্রতিশ্রুতি দিতেন। তবে শুধুমাত্র ড্রয়িং ও পেইন্টিং শেখানোর মধ্যে এই গুরু-শিষ্য সম্পর্ক সীমাবদ্ধ ছিল না। যারা তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করবে তাদেরকে নিজেদের বয়ফ্রেন্ডসহ সবকিছু ত্যাগ করতে বলতেন। আর তিনি দিনে হোক বা রাতে যখনি ডাকবেন দেখা করতে বলতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারী দ্বিতীয় বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে আলাদা দেখলেই উনি তাদেরকে বাসায় যাওয়া পর্যন্ত পিছু নিয়ে ব্যক্তিগত আলাপ শুরু করে দিতেন। এছাড়া উনি কাউকে আলাদা ডাকলে যদি কখনো তারা বন্ধু-বান্ধবী কাউকে সঙ্গে নিয়ে গেলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক দুইজনকেই অপমান করতেন। তিনি চাইতেন তার ডাক পাওয়া নারী শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করুক।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নাম্বার বণ্টনের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভালো সম্পর্ক রাখা শিক্ষার্থীদেরকে তিনি সবসময় বেশি নাম্বার দিতেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তিনি সাধারণত তাদেরকে চাপে ফেলার জন্য প্রথম ধাপে সবসময় কম মার্কস দিতেন। পরীক্ষার খাতায় খারাপ করেও এরপরে শুধুমাত্র তার সঙ্গে আলাদা দেখা করতে গেলেই তিনি তাদের নাম্বার বাড়িয়ে দিতেন। নাম্বার বাড়িয়ে বলতেন বিগত দিনে তোমাদের পারফরম্যান্স ভালো তাই তোমাদের নাম্বার বাড়িয়ে দিলাম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটপ শোভন বাছাড় বলেন, তিনি এখনো অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। তিনি ডিসিপ্লিনের কিছু শিক্ষকের নোংরা রাজনীতির শিকার। এসময় তিনি অভিযোগপত্র হাতে পেলে সব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে চান। আর গুরু শিষ্যত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যারা অভিযোগ করেছে তারা আসলে এই টার্মটাই বোঝে না।

এদিকে গত বছরের ২৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের একজন নারী শিক্ষিকা তারই সহকর্মী একই ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে জমা দেন।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নমূলক কার্যকলাপ দমনের লক্ষ্যে প্রণীত ‘উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা, ২০০৮’ অনুযায়ী নিরোধ কেন্দ্র সর্বোচ্চ ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে কমিটির রিপোর্ট এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অপরাধীর শাস্তির নির্দিষ্ট সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদান করবে। তবে বিশেষ যৌক্তিক কারণে তদন্তের সময়কাল সর্বোচ্চ ষাট কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে। তবে সাড়ে সাত মাস পেরিয়ে গেলোও এখনো শেষ হয়নি ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সেই তদন্তপ্রক্রিয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের প্রধান প্রফেসর মোসা. তাসলিমা খাতুন বলেন, ড্রইং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি আরো বলেন, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করার জন্যই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ওই নারী শিক্ষকের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য