হাওরে দেবে যাচ্ছে ফসল রক্ষার বাঁধ, কাটা হচ্ছে ধান

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধগুলোর বেশির ভাগই ১০ দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত। এতে জায়গায় জায়গায় বাঁধ দেবে যাচ্ছে। শুধু নতুন বাঁধ নয়, গেলবারের পুরনো বাঁধগুলোও দেবে যাচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার শনির ও মাটিয়ান হাওরে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।

এদিকে তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের গোলাঘাট ও লেদারবন্দ হাওরে পানি ঢুকে চার হাজার ৫০০ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। গতকাল বিকেল ৪টায় নালেরবন্দ বাঁধ ও কাউকান্দি গ্রামের পাশের বাঁধটি ভেঙে গোলাঘাট হাওরে পানি ঢোকে। আর ভোরে লেদারবন্দ হাওরের দক্ষিণ পাশের বাঁধটি ভেঙে লেদারবন্দ হাওরে পানি ঢোকে। তবে হাওর দুটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো প্রকল্প ছিল না।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং অন্য বৈশ্বিক সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ১০ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বরাক অববাহিকা ও মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতও হবে। ফলে সুনামগঞ্জের সুরমা, যাদুকাটা, বৌলাই, কংস, সোমেশ্বরীতে পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে এবং নদ-নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করলে কোনো হাওরের ফসল টেকানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ দিন ধরে প্রতিটি নদ-নদী পানিতে টইটম্বুর। মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীতে পানি ধীরে ধীরে কমছে। ফলে সব হাওরের বাঁধের বেশির ভাগ অংশই পানিতে ডুবে আছে। কাঁচা মাটির এই বাঁধগুলো ১০ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় এখন ধস নামছে। মাটি দেবে যাওয়ায় জায়গায় জায়গায় ফাটল দেখা দিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ টিকিয়ে রাখার কাজ চলছে। এর তদারকি করছেন জেলা বাঁধ নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। গতকাল রবিবার দিনব্যাপী তিনি স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দোহা, মো. জহিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দলকে নিয়ে অতিঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পরিদর্শন করেছেন।

হাওরের স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানান, শনিবার শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত, বজ পাত ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধগুলো। প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটির অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধগুলোতে চিকন ফাটল দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে থাকায় এসব ফাটল বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। সেগুলো মেরামত ও সংস্কার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনের লোকজনসহ স্বেচ্ছাশ্রমের কাজে নিযুক্ত কৃষকদের।

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মনিটরিং কমিটির সদস্য স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সরেজমিনে দেখেছি যে পুরনো বাঁধও দেবে যাচ্ছে। তা ছাড়া নতুন বাঁধগুলো পানির চাপে দেবে যাচ্ছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য