পুকুরে পুকুরে ‘সাকার ফিশ’; উৎকণ্ঠায় উপকূলীয় মৎষ্যচাষিরা

সিলেটের সময় ডেস্ক:

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এক পুকুরেই ধরা পড়েছে এক এক করে ২৫টি সাকার ফিশ। ছোট একটি পুকুরে একসঙ্গে এতগুলো সাকার ফিশ ধরা পড়ায় উপস্থিত অনেকেই অবাক হন। শনিবার (৯ এপ্রিল) পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পূর্ব-চরবলেশ্বর গ্রামের একটি ছোট পুকুরে ২৫টি সাকার মাছ ধরা পড়ে। এর আগেও একই পুকুরে জাল ফেলে বেশ কটি সাকার ফিশ ধরা পড়েছিল।

জানা যায়, সাকার ফিশ অথবা সাকার মাউথ যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এটা এক ধরনের শোভাবর্ধনকারী অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ। কিন্তু বর্তমানে এই মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামের বাইরেও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে। আর তাই আশঙ্কা বেড়েছে মৎস্যচাষিদের মধ্যে। গ্রামাঞ্চলের অনেকের কাছেই এই মাছ একেবারে নতুন একটি প্রজাতি। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় এই মাছ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। নাম না জানা অনেকেই এটিকে বিরল প্রজাতির মাছ বলে থাকেন। কিন্তু এটা বিরল নয়। দক্ষিণ আমেরিকায় এটা সহজলভ্য।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাকার মাউথ ক্যাটফিশ মূলত অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hypostomus plecostomus। গায়ে কালোর ওপর সোনালি ডোরা কাটা। অমসৃণ শরীর। পিঠের ওপরে ও শরীরের দুপাশে বড় কাটার মতো ধারালো পাখনা আছে। মুখে আছে ধারালো দাঁত।

সাকার ফিশ মূলত জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ খেয়ে থাকে। তবে এটি শিকারি প্রজাতির নয়। মুখ দিয়ে শুষে খাবার খায়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী, বাসিন্দা ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নদীসংলগ্ন খাল-বিল এবং আশপাশের পুকুরে কয়েক বছর ধরে সাকার ফিশের দেখা মিলছে। স্থানীয়রা এ মাছকে চেনে ‘টাইগার ফিশ’ নামে।

মৎস্যচাষিরা এই মাছ দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ মাছের আঘাতে অন্য সব চাষ করা মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সাধারণভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না চাষকৃত মাছ। বিপাকে পড়েছে মৎস্যচাষিরা। এখন এই মাছ শুধু  নদী বা খালে নয়, দেখা যাচ্ছে পুকুরসহ বিভিন্ন মাছের ঘেরেও। তাই কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলছে মৎস্যচাষিদের। ডোরা কাটা দাগ ওয়ালা এই মাছ প্রথম দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছে। জাতীয় মাছের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র নদী ও খাল-বিলের বাস্তুসংস্থানের জন্য অশনিসংকেত এখন এই সাকার ফিশ।

সাকার মাউথ মাছ যে হারে উপকূলীয় এলাকায় ধরা পড়ছে, তাতে বাংলাদেশের জন্যও আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত এই মাছের বংশবৃদ্ধি রোধ না করতে পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন উপকূলীয় এলাকার মৎস্যচাষিরা- এমনটাই ধারণা অনেকের।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, উপকূলজুড়ে যখন ২০০৭ সালের সিডরের আঘাতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, তখন থেকেই এই মাছ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় কম-বেশি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় নদ-নদীগুলোতে জেলেদের গড়া ও বাঁধা জালে এই মাছ ধরা পড়ছে বিভিন্ন সময়ে। এ ছাড়া শীত-গ্রীষ্ম মৌসুমে উপকূলীয় এলাকার নদী, খাল ও পুকুরগুলোতে এ মাছের বিচরণ দেখা যায়। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতেও অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এই সাকার ফিশ দেখা যায়।

ইন্দুরকানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার জুলফিকার আলী বলেন, ‘সাকার মাউথ মাছ আমাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ মাছ নিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা চলছে। এই মাছ খাওয়ার যোগ্য না। কিন্তু খুব দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। আবার সহজে মরেও না। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামের শোভা বর্ধনের জন্যই আনা হয়েছিল এ দেশে। কিন্তু এখন সেটা আর অ্যাকুয়ারিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রায়ই দেখা মিলছে জেলেদের জালে। এই মাছ অন্যান্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলছে। এটা বেশ কয়েক বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা এ মৎস্য কর্মকর্তার।

এ বিভাগের অন্যান্য