‘উচিত শিক্ষা’ দিতে নায়ক সোহেল চৌধুরীকে হত্যা

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

রাজধানীর বনানীর আবেদীন টাওয়ারের অষ্টম তলায় অবস্থিত ট্রাম্পস ক্লাবের পাশে ছিল বনানী জামে মসজিদ। নিহত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী বনানী মসজিদের কমিটি নিয়ে কয়েকবার ট্রাম্পস ক্লাবের অশ্লীল কর্মকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। তখন তাঁকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার নির্দেশ দেন আজিজ মোহাম্মদ।

তাঁর নির্দেশে আশীষ রায়চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী ও আসাদুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম চিত্রনায়ক সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে। ইমন ও তার দল মিলে সোহেলকে গুলি করে হত্যা করে।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আশীষ রায়চৌধুরীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানের ভাড়া বাসা থেকে আশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, আশীষ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সোহেল চৌধুরীকে হত্যার ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আশীষ। র‌্যাবের অভিযানে তাঁর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আলাদা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানান আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ৯ আসামির বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০১ সালের ৩০ নভেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলার ১ নম্বর আসামি আদনান সিদ্দিকী দুই বছর পর হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন।

পরে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ রুলটি খারিজ করে মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। এর পর থেকে মামলাটির কার্যক্রম চলছে। এই মামলার আসামি ফারুক, লিটন, ইমন ও তারেক সাঈদ জেলে আছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছয়জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এ বিভাগের অন্যান্য