সন্তানের সামনে মায়েদের ধর্ষণ-হত্যা করেছে রুশ: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাতিসংঘকে বলেছেন, সন্তানদের সামনেই নারীদের ধর্ষণ ও হত্যা করেছে রুশ বাহিনী। এ ব্যাপারে বিশ্বকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর এবিসি নিউজের।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে ধরে এ আহ্বান জানান।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলেনস্কি জাতিসংঘের কূটনীতিকদের বলেন, বেসামরিকদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাদের মাথার পিছনে গুলি করা হচ্ছে। তাদের কূপে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের অ্যাপার্টমেন্টে গ্রেনেড দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাদের ট্যাংক দিয়ে পিষিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রুশরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটেছে, গলা কেটেছে। নারীদের তাদের সন্তানদের সামনে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। অনেকের জিহ্বা কেটে দেওয়া হয়েছে, কেবল আগ্রাসীরা তাদের কাছে যা শুনতে চেয়েছিল তা শুনতে পারেনি বলে।

জেলেনস্কি বলেছেন, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং যারা আদেশ দিয়েছে তাদের উভয়কেই যুদ্ধাপরাধের জন্য অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে কয়েকদিন ধরে আলোচনায় আছে ইউক্রেনের বুচা শহরের নাম। শহরটি থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে শত শত বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য পশ্চিমা রাজনীতিবিদরাও রাশিয়াকে দায়ী করছেন। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এ হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানাতে শুরু করে।

তবে ওই শহরে যুদ্ধাপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বুচা শহরের মেয়র আনাতোলি ফেদোরুক রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি যেন বুচা শহরে এসে সেখানকার পরিস্থিতি দেখেন। যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার, বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান যারা এতিম হয়েছে তারা কেমন আছে, তা রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজের চোখে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা একযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা শুরু করেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরুর পরপরই বুচায় পৌঁছে যায় রুশ বাহিনী। পাঁচ সপ্তাহের তুমুল লড়াইয়ের পর বুচা ছাড়ে রাশিয়ান সেনারা।

এ বিভাগের অন্যান্য