সরকার গঠনের নতুন ফর্মুলা দিল বিএনপি

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ তাদের সমমনা কয়েকটি মিত্র রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকার গঠনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। অন্তত দুই বছর রাজনৈতিক সংস্কারের পর জাতীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে এ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এ নিয়ে গত কয়েক মাসের নানা বিতর্কের মধ্যে বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

দলের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির গণতান্ত্রিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে। অর্থাৎ মিত্র দলগুলোকেও সরকারের রাখবে দলটি।

বিএনপির এ ফর্মুলা নিয়ে দল ও দলের বাইরে নানা ধরনের আলোচনা আছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ শক্তির দল বিএনপির এ মতে কিছুটা হতাশই হয়েছেন রাজনৈতিক সংস্কারপ্রত্যাশী মিত্র দলগুলো। তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকারই থাকতে হবে। কারণ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো। জাতীয় সরকার একটি ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব।

আজ বুধবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পরে যারা আন্দোলন করেছে তাদের নিয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করব-এটা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও বলেছেন। ’

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার যে সমস্যার সৃষ্টি করেছে একমাত্র হতে পারে যদি সত্যিকার অর্থেই একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হয় এবং তার অধীনে যদি একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলেই শুধু দেশের চলমান সমস্যার সমাধান হতে পারে। ’

গত ২৮ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাজনৈতিক ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে ছোট-বড় বেশকিছু দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বিএনপির দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। সমমনা প্রায় সব দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষ হলেও দুই মাসে এ প্রক্রিয়ার কোনো ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি ঐক্য তৈরির চেষ্টা করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রসহ কয়েকটি শরিক দল জাতীয় সরকারের ভাবনা নিয়ে এগুচ্ছে। এ ভাবনার কয়েকটি দলের নেতারা দুইদিন আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাবেশও করেছে। এ পরিপ্রেক্ষতে বিএনপি স্পস্ট বক্তব্য এলো।

দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ ফর্মুলা নিয়ে বিএনপি সমমনা দলগুলোর ঐক্য সৃষ্টি করতে কাজ করবে। সরকার বিরোধী ঐক্য তৈরি করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বিএনপি তাদের এ ফর্মুলা তুলে ধরবে। এর আগে এ ফর্মুলার পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলবে দলের নেতাকর্মীরা। সারা দেশে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা জাতীয় সরকারের এ ফর্মুলা দেন। এরপর দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই ধারণার প্রচার শুরু হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান বক্তা এবং কেন্দ্রীয় নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনে আগে জাতীয় সরকারের তত্ত্ব সামনে নিয়ে আসে। এটি মূলত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে পাশ কাটিয়ে কিছু জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর ক্ষমতায় থাকার তত্ত্ব।

লন্ডনে অবস্থারত বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তাই আমরা নির্বাচনকালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার চাই। ওই নির্বাচনের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপি দলীয় সংকীর্ণতার মধ্যে আটকে থাকতে চায় না। ’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্য সৃষ্টি করে নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। এই শক্তির সঙ্গে থাকতে হলে জামায়াতকে প্রমাণ করতে হবে তারাও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি- এ দায়িত্ব তাদের। ’

 

এ বিভাগের অন্যান্য