ছুরিকাঘাতে বুলবুলের মৃত্যু, ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

রাজধানীর মিরপুর কাজীপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ডা. বুলবুল হোসেন নামে এক চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। তিনি দাঁতের ডাক্তার ছিলেন। আজ রবিবার ভোরে ছুরিকাঘাতে আহত হলে তাকে আল হেলাল হাসপাতাল নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়েছে।

বুলবুলের মৃত্যুতে হতবাক হয়েছেন ঢাকার শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের অনেক সাংবাদিক, মানতে পারছেন না বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। মগবাজারে রংপুর ডেন্টাল নামে বুলবুলের চেম্বার রয়েছে। ঢাকার অনেক গণমাধ্যমকর্মী বুলুবুলের কাছে চিকিৎসা নিতেন। তাঁর এমন মৃত্যুতে কিছুতেই মেনে নিতে নিতে পারছেন না তারা। শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে কর্মরত মানিক মুনতাসীর এই মৃত্যুতে হতভম্ব হ্যে লিখেছেন, ‘আমি জাস্ট হতভম্ব। ডা. বুলবুল আর নেই। এ শহর আপনাকে আমাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। শুধুই ট্যাক্স দিয়ে যান। ফিরতি নিশ্চিত মৃত্যু। আজ ভোরে শ্যাওড়া পাড়া এলাকায় ছিনতাইকারীরা কেড়ে নিয়েছে আমার ভাই, আত্মার আত্মীয়। বুলবুলকে। আমি জাস্ট হতভম্ব, ক্ষুদ্ধ। ’

মনোজ দে নামের একজন লিখেছেন,  সকালটা বিষণ্ণ হয়ে গেল বুলবুল ভাইয়ের খুনের সংবাদে। বুলবুল ভাই আমাদের বন্ধু, আমার মতো অনেক বামপন্থী বন্ধুর ডেন্টিস্ট। ছিন্নমূল ও পথশিশুদের বিনামূল্যে দাতের চিকিৎসা দিতেন।   রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন চিন্তার এই মানুষটার সঙ্গে কত তর্ক বিতর্ক করেছি, কিন্তু কোনোদিন মতবিরোধ হয়নি। হাসিমুখে চা খেতে খেতে বিদায় নিয়েছি। কোনোদিন বাসের ভাড়া না থাকলে জোর করে পকেটে টাকা গুঁজেও দিয়েছে।   আজ ভোরে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। পথে পড়ে ছিল তার রক্তাক্ত লাশ। এটা ছিনতাই নাকি হত্যা সেটা নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ভেঙে পড়েছে তারই লক্ষণ। বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হবে না এটাই সত্য। যারা এই নৈরাজ্যকে টিকিয়ে রেখেছে তাদের কাছে বিচার চেয়ে লাভ কি?? বুলবুল ভাই, বিদায়। আপনার হাসিমুখ আর কোনোদিন দেখা হবে না। ’

আরাফাত সিদ্দিক নামের একজন লিখেছেন, ‘মেনে নিতে পারছিনা, ডা. বুলবুল ভাই আমার ফ‌্যামেলি ডেন্টিস্ট ছিলেন। বন্ধুর মতো নিজে ফোন দিয়ে চিকিৎসা পরবর্তি খোঁজ নিতেন। তাঁর কাছে গেলে প্রত‌্যেকবার স্লোগান একটা আইসক্রিম পেতো। আমরা পেতাম কাছের মানুষের সান্নিধ‌্য। এই নগরে এভাবেই হয়তো টুপ করে একদিন মারা যাবো। ’

মিঠু নামের একজন লিখেছেন,‘বুলবুল, তুই চলে যাবি এভাবে?? সব মত্যু মেনে নেয়া বড়ই কষ্ট, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন,  আল্লাহ তোকে জান্নাতের মেহমান করুন। মানুষের সেবা করেছিস তোর সাধ্যমত। আমার চোখের পানি তোকে জান্নাতুল ফেরদৌসে নিয়ে যাক। তোর হত্যাকারীরা শাস্তি পাক। তোর হাসি আর দেখবো না আমি। ’

শাহে আলম লিখেছেন, আমার বন্ধু বুলবুল আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন । যতদূর জানতে পারছি আজ সকালে
ছিনতাই কারির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা গেছে। আল্লাহ পাক আমার বন্ধুকে শহীদের মর্যাদা দান করুক। আমিন আমিন । ’

বাপ্পা ভাই নামের একজন লিখেছেন, সকাল সকাল এরকম একটা দুঃসংবাদ শোনার জন্য কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না। বন্ধু ডাঃ আহমেদ মাহী বুলবুল  ভাই আর নেই, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। খবরটা শুনে বুকটা কেঁপে উঠলো, চোখের পানি আর আটকাতে পারলাম না। তবুও শিওর হওয়ার জন্য ভালোভাবে খোঁজ খবর নিতে বললাম। ও হাসপাতালে গিয়ে দেখে ঘটনা সত্যি। বুলবুলকে নাকি ঢাকার শেওড়াপাড়ায় নিজ বাসার সামনে সকালবেলায় কে বা কারা হত্যা করেছে, ওর মত একজন ভালো মানুষকে কেউ হত্যা করতে পারে বিশ্বাসই হচ্ছেনা। রংপুরে আসার কথা কয়েকদিনের মধ্যে কিন্তু লাশ হয়ে যে আসবে এটা ভাবিনি। ’

রিদয় আলম নামের একজন লিখেছেন, আমি হতভম্ব। ডা. বুলবুল আর নেই। এ শহর আপনাকে আমাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ! শুধুই ট্যাক্স দিয়ে যান। ফিরতি নিশ্চিত মৃত্যু। আজ ভোরে শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় ছিনতাইকারী কেড়ে নিয়েছে বুলবুলের প্রাণ। আমি সত্যি অবাক, আতঙ্কিত, ভীত, হতভম্ব, ক্ষুদ্ধ! ’

শেওড়াপাড়া পীরেরবাগে পরিবার নিয়ে থাকতেন ডাক্তার বুলবুল। আজ সকাল সাড়ে ৫টার দিকে শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হন নোয়াখালী যাওয়ার জন্য। পরে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন।

মিরপুর থানার ওসি মোস্তাজিজুর রহমান বলেন, ‘শেওড়াপাড়া মেট্রো রেল স্টেশনের কাছে দুর্বৃত্তরা ডাক্তার বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করে। তার উরুতে আঘাত করার কারণে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ডাক্তার বুলবুলের কাছে ১২ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা হলে টাকা মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কথা। আবার বাধাগ্রস্ত হলেও অনেক সময় ছিনতাইকারীরা টাকা পয়সা না নিয়ে পালিয়ে যায়। তাই ঘটনাটি ছিনতাইকারী ঘটিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’

এ বিভাগের অন্যান্য