ধর্ষণের পর বিয়ে, পরে স্ত্রীকে হত্যা

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে দুই মাস আটকে রেখে ধর্ষণের পর বাধ্য হয়েই নিজের থেকে ৪৫ বছরের ছোট রিবা আক্তারকে বিয়ে করেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রাজ্জাক। একদিকে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে রিবার চাপ, অন্যদিকে ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের পরিকল্পনা করেন রাজ্জাক। স্ত্রীর চাপ থেকে মুক্তি আর ভাই ও ভাজিতাকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে খুন করেন রিবাকে। ঘটনার দুদিন পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জালে ধরা পড়েন ঘাতক রাজ্জাক।

পুলিশ সুপার জানান, দুই মাস আগে গাজীপুরে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে পরিচয় হয় গার্মেন্টকর্মী রিবা আক্তারের। নরসিংদীর মাধবপুর উপজেলার খিলগাঁও গ্রামের অটোচালক দুলাল মিয়ার মেয়ে রিবার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা চলে, বাড়ে সখ্যও। এক পর্যায়ে রিবাকে টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ এবং এক পর্যায়ে বিয়ে করেন রাজ্জাক। বিয়ের পর রাজ্জাকের গাজীপুরের গাছা রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় যাতায়াত ছিল রিবার।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ১৫ মার্চ ধোবাউড়ার গোয়াতলা রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে এক যুবকের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ পায় তারা। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক তার ভাতিজা ও ভাইকে ফাঁসাতে গাজীপুর থেকে রিবাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া কংশ নদের পাশে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখেন।

পরে ভাতিজার জন্ম নিবন্ধনের কাগজ মরদেহের পাশে ফেলে রাখেন রাজ্জাক। ওই কাগজের সূত্র ধরে যুবক শহিদল্লাহকে আটকও করে পুলিশ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ঘটনার মূলহোতা রাজ্জাকের। বুধবার অভিযান চালিয়ে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আরও দুজন জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন রাজ্জাক। তাদেরও গ্রেপ্তার করতে ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য