‘ঝুইলা’ থেকেও খালি হাতে ফিরলেন তিনি

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

‘সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়াইছি। হের পরও ৩০-৪০ জনের বেশি মাইনসের পিছে পড়ছি। ১২টার দিকে ট্রাক আইলো। লাইনে দাঁড়াইয়া থাকলাম।

প্যাকেট করতে করতে আরো এক ঘণ্টা লাগল। কতক্ষণ দেওনের পর মানুষের গ্যাঞ্জামে ট্রাকওয়ালা ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দিকে চইলা গেছে। কতক্ষণ ঝুইলা আছিলাম, কিন্তু আইজকা কিছুই নিতাম পারলাম না। ’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা আলফাজ মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। এ সময় আলফাজের মতোই অপেক্ষার পরও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে দেখা যায় অনেককে। তাঁদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কিছু মানুষ প্রতিদিন এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের এটি নিয়মিত কাজ হয়ে গেছে। পরে যা পায় অন্য জায়গায় গিয়ে কিংবা অনেক সময় টিসিবির ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়েই বিক্রি করে দেয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে প্রায় প্রতিদিনই টিসিবির ট্রাকের পেছনে বাড়ছে নতুন মুখের সংখ্যা।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টার দিকে পলাশী মোড় থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দিকে টিসিবির পণ্যভর্তি একটি ট্রাক দ্রুত চলে যাচ্ছে। ট্রাকের পেছনের দিকে নজর করে দেখা যায়, অন্তত সাত-আটজন মানুষ ট্রাকের পেছনের ডালা ধরে ঝুলছেন। বুয়েটের সামনে গতিরোধকের ওপর ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে বসেছিলেন আলফাজ। পরে নেমে যান। এরপর কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

একই সময়ে ট্রাকের পেছনে দৌড়ানো গৃহিণী হালিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা সব সময় আসি না। কিন্তু যখন আসি তখন অনেক ভিড় থাকে। অনেক সময় লজ্জায় চলেও গেছি। বর্তমানে এমন অবস্থা, আমার স্বামী ছোট চাকরি করে। আমায় না বললেও কষ্ট করে লাইন ধরে মাসে অন্তত একবার পেঁয়াজ, তেল, ডাল এগুলো নেই। ’

জানা গেছে, এক সপ্তাহ বিরতির পর তিন দিন ধরে রাজধানীর ১৫০টি স্পটে আবারও ট্রাকে করে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি করছে টিসিবি।

এদিকে গতকাল বাড্ডা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পণ্য নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বয়সী মানুষ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলাও চোখে পড়ল। অন্তত ১১ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের কেউ কেউ সকাল থেকে, কেউ দুপুর থেকে দাঁড়িয়ে আছেন। লাইন আর শেষ হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন তাঁরা। এ সময় পণ্য পেয়ে খুশি হয়ে বাসায় ফেরার অপেক্ষায় সুজন নামের একজন বলেন, তিনি সকাল থেকে অপেক্ষায় থেকে প্রতি লিটার ১১০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, চিনি ৫৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি, মসুর ডাল ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি এবং পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি কিনেছেন।

সবশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পণ্য বিক্রি করার পর গত রবিবার থেকে আবার ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পরিবেশকদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে টিসিবি। এবারের এই কার্যক্রম চলবে আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় রাজধানীতে এখন ১৫০টি পয়েন্টে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এসব পয়েন্টে প্রতিদিন ২৫০ জনের কাছে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা তার বেশি হওয়ায় হয়তো সবাই পাচ্ছে না।

 

এ বিভাগের অন্যান্য