স্বাস্থ্যবিধি শিথিল, পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে শতভাগ মুসল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ফের স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করেছে সৌদি আরব। ফলে পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নেওয়া হয় সামাজিক দূরত্বের সীমারেখা। করোনাপূর্ব সময়ের মতো স্বাভাবিকভাবে নামাজ, ওমরাহ ও জিয়ারতের সুযোগ পাবেন মুসল্লিরা। তবে টিকা নেওয়াসহ নির্দিষ্ট অ্যাপে তাদের ইমিউন বা করোনামুক্ত থাকার চিহ্ন থাকতে হবে।

গতকাল শনিবার (৫ মার্চ) সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরিধানসহ করোনাবিধি শিথিলের কথা জানায় সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদসহ সব মসজিদে সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে মুসল্লিদের মসজিদে মাস্ক পরে থাকতে হবে। এছাড়াও উন্মুক্ত বা আবদ্ধ স্থান, ইভেন্ট ও অনুষ্ঠানে সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, উন্মুক্ত স্থানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক না হলেও আবদ্ধ স্থানে মাস্ক পরতে হবে। বাইরের দেশ থেকে সৌদিআরবে আসার আগে পিসিআরে কোভিড টেস্টও এখন আর আবশ্যক নয়। তবে ভিজিট আসার ক্ষেত্রে হেলথ ইন্সুরেন্স করা বাধ্যতামূলক। যেন কোভিডে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা ব্যয় মেটানো যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বা হাউজ কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম বহাল থাকছে না। তাছাড়া আফ্রিকার যেসব দেশ থেকে সরাসরি আসা-যাওয়া বন্ধ ছিল সেসব দেশ থেকে সরাসরি আসা-যাওয়া করা যাবে।

এর আগে আরেক নির্দেশনায় করোনা টিকার উভয় ডোজ নেওয়া মুসল্লিরা ওমরাহ পালন করতে পালন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তাছাড়া ‘ইতামারনা’ বা ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপের সাহায্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে আবেদন করতে হবে। পাঁচ বছর বয়সী শিশুরাও কাবা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি করোনাকালের দীর্ঘ ৩০ মাস পর সাত বছর বার এর বেশি বয়সী শিশুদের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে সামাজিক দূরত্বসহ সব ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৭ অক্টোবর সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরাসহ করোনা বিষয়ক বিধি-নিষেধ শিথিল করে সৌদি আরব।

২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর প্রথমবারের মতো সতর্কতামূলক কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করে সৌদি আরব। তখন ওমরাহ পালনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর জরুরি অবস্থা জারি করে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সীমিত পরিসরে ওমরাহ ও হজ কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়।

সূত্র : আরব নিউজ

 

এ বিভাগের অন্যান্য