মৃত অন্তর সম্পর্কে কোরআনে যা বলা হয়েছে

মহান আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন। এটি ঈমান, নিয়ত, ইখলাস ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল। পবিত্র কোরআনে ১৩২ বার ‘কলব’ (অন্তর) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। হাদিছে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার দিকে দেখবেন না; বরং তিনি দেখবেন তোমাদের অন্তর ও কর্ম।

’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জেনে রেখো! শরীরের মধ্যে এমন এক টুকরা গোশত আছে, যা সুস্থ থাকলে গোটা দেহ সুস্থ থাকে, আর এটা অসুস্থ হয়ে গেলে গোটা দেহ অসুস্থ হয়ে যায়। জেনে রেখো, আর এটাই হলো অন্তর। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫২)

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া (রহ.) বলেন, অন্তর তিন প্রকার। যথা—

সুস্থ অন্তর :

পরকালে মুক্তির জন্য সুস্থ অন্তর থাকা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন,  ‘কিয়ামতের দিন কোনো অর্থ-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি কারো কোনো উপকারে আসবে না। শুধু ব্যক্তি মুক্তি পাবে, যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। ’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮৮-৮৯)

সুস্থ অন্তর আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সামনে সব কিছু সমর্পণ করে। কুফর, শিরক, মুনাফেকি ও বিদআত থেকে দূরে থাকে। ভালোবাসা, আস্থা, তাওবা, বিনয়, ভয়—সব আল্লাহর জন্য করে। আত্মসাৎ, হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, ঈর্ষা, কৃপণতা, অহংকার, দুনিয়ার মোহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে।

অসুস্থ অন্তর:

অসুস্থ অন্তর জীবিত কিন্তু রোগাক্রান্ত। মানবদেহের মতো অন্তরও রোগাক্রান্ত হয়। অসুস্থ অন্তরে ঈমান ও নিফাক উভয় থাকতে পারে। যদি ঈমান, ইখলাস, আল্লাহর ভালোবাসা, তাওয়াক্কুল দ্বারা প্রভাবিত হয় তাহলে সুস্থ কলবের পর্যায়ে উন্নীত হয়। আবার যদি কুপ্রবৃত্তি, হিংসা, অহংকার, শিরক ও মন্দ কাজ দ্বারা প্রভাবিত হয় তাহলে তা মৃত অন্তরের পর্যায়ে চলে যায়। পাপে মগ্ন অন্তর অসুস্থ প্রকৃতির হয়। এর ধরনের অন্তরে কালো দাগ পড়ে যায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের অন্তরে জং ধরিয়েছে। ’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৪)

মৃত অন্তর:

মৃত অন্তর জীবিত অথচ নিষ্প্রাণ ও অনুভূতিহীন। এ ধরনের অন্তর ভালো-মন্দ পার্থক্য করতে পারে না। পাপ-পুণ্য, আলো-আঁধার তার কাছে সমান। এরা উদাসীন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি (আল্লাহ) সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা অনুধাবন করে না, তাদের চোখ আছে, তা দিয়ে দেখে না, কান আছে তা দিয়ে শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হলো গাফিল—শৈথিল্যপরায়ণ। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)

আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে তার রবের জিকির করে, আর যে জিকির করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪০৭)

প্রতিকার : অন্তরের অসুখের প্রতিকার হলো আল্লাহমুখী হওয়া। বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। নিজের পাপের জন্য তাওবা করা এবং ক্রন্দন করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। এবং আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিমগ্ন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়, (তারাই আল্লাহমুখী)। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়। ’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

এ বিভাগের অন্যান্য