সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি মেলেনি, বাসদের সমাবেশ মহানগর নাট্যমঞ্চে

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রথম কংগ্রেসের (সম্মেলন) উদ্বোধনী সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ৩ মাস আগে আবেদন করা হয়। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারে পুলিশের অনুমতি মেলেনি। তাই আগামী ৪ মার্চ আড়াইটায় কংগ্রেসের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে (কাজী বশির মিলনায়তন) অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বাসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন এবং কেন্দ্রীয় বর্ধিত পাঠচক্র সদস্য রওশন আরা রুশো, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন ও ইমরান হাবিব রুমন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুঁজিবাদ সর্বোচ্চ মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সমাজ ব্যবস্থা। ফলে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো তথা ধনিক শ্রেণির শাসন শোষণ বহাল রেখে মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ বিবর্ণ হতে হতে হারিয়ে গেছে। এই অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ তথা সমাজতন্ত্র -সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে বাসদের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশে যোগ দিয়ে ওই কংগ্রেস সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ সময় জানানো হয়, ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দলটির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘শ্রেণিসংগ্রাম বেগবান কর, মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা কর’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কংগ্রেস সফল করার লক্ষ্যে সারা দেশে প্রচার অভিযান ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কংগ্রেসে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে বক্তৃতা করবেন শ্রীলংকা জনতাভিমুক্তি পেরমুনা দলের সাধারণ সম্পাদক তিলভিন সিলভ, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন ভারতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুচিতাদে ও নেপালের সিপিএন (মাক্সসিস্ট সেন্টার) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওম শর্মা।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ আজ কতৃত্ববাদী-ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। সর্বক্ষেত্রে মুনাফালোভি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম। দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থ পাচারের অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। নারী-শিশু নির্যাতন বেড়েই চলছে। শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পায় না। দিনে দিনে বেকারের মিছিল বাড়ছে। কৃষক ফসলের দাম পায় না। সাধারণ মধ্যবিত্ত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত। গণতন্ত্রের নামে যে ভোটতন্ত্র চালু ছিল তাও আজ গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত করতে পারছে না। এ পরিস্থিতির জন্য পুঁজিবাদী-শোষণ ও লুণ্ঠনই দায়ী।

এ বিভাগের অন্যান্য