মসজিদের গেটে তালা, সড়কে মুসল্লিদের নামাজ আদায়

সিলেটের সময় ডেস্ক ঃ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা চত্বরে মসজিদের খাদেম ও মুসল্লিদের মধ্যে এসি চালানো নিয়ে দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মসজিদের গেটে তালা লাগানো হলে মুসল্লিরা সড়কে নামাজ আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার উপজেলা চত্বরে মসজিদের এশার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলা চত্বরে মসজিদের খাদেম ও মুসল্লিদের মধ্যে এসি চালানো নিয়ে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে খাদেম মূল গেটে তালা লাগিয়ে রাখেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার এশার নামাজের আজান হয়ে যায়। তার পর মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে গেটে তালা মারা অবস্থায় দেখেন। এক এক করে প্রায় অর্ধশতাধিক মুসল্লি ওই গেটের সামনে অবস্থান নেন। শেষ পর্যন্ত গেট না খুলে দেওয়ায় মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে তালা লাগানো গেটের সামনে নামাজ আদায় করেন।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)  মনিরুজ্জামান খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত মুসল্লিদের শান্ত করেন।

সড়কে নামাজ আদায়কারী ইমাম মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত উপজেলা চত্বরের মসজিদে নামাজ আদায় করি। শেষ মাগরিবের নামাজও আদায় করেছি। কিন্তু এশার নামাজের সময় দেখি মূল গেটে তালা। এশার নামাজের সময় পার হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তালা খুলে দেওয়া হচ্ছিল না। আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ তালা লাগানো গেটের সামনে সড়কেই এশার নামাজ আদায় করেছি। তবে এসি চালানো নিয়ে খাদেম আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুসল্লিদের দ্বিমত সৃষ্টি হওয়ার কারণে গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, মসজিদের গেট বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা নেই। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়। তবে গেটের চাবির দায়িত্বে থাকেন নৈশপ্রহরী। তার কোনো কারণে দেরি হওয়ায় কিছু মসল্লিকে উসকানি দিয়ে এমন কাজ করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে  উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুজ্জামান বলেন, এক ব্যক্তি নিয়োমিত উপজেলা চত্বরে ব্যক্তিগত গাড়ি রাখেন। নিরাপত্তার জন্য উপজেলা চত্বরের মূল গেটে তালা লাগানো থাকার কারণে এ গাড়ি বের করতে পারছিলেন না তিনি। কোনো কারণবশত নৈশপ্রহরীর তালা খুলে দিতে দেরি হওয়ায় মুসল্লিদের উসকে দিয়ে এমন কাজ করিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের নিরাপত্তার জন্য গেটে তালা লাগিয়ে রাখাটা স্বাভাবিক। এ নিয়ে মুসল্লিদের উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা করতে হবে এমনটি নয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি ফেসবুকে একটি কমান্ড দিয়েছেন, তা তুলে ধরা হলো— এটি নিয়ে পানি ঘোলা করার কোনো সুযোগ নেই। রাতেরবেলা মসজিদের এসি নষ্ট হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে এতগুলো এসি দ্রুত সারানো যায়নি। সেটি নিয়ে কেউ কেউ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। ধৈর্য ধারণ আমাদের ধর্মের একটি বড় দিক; এটি ভুলে গেলে চলবে না। আর কারা এ রকম পরিস্থিতিতে উসকানি দিচ্ছে, আমরা তা জানি।

একটা রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রধান হিসেবে তোমার দায়িত্ব হলো পরিস্থিতি বুঝে সেটি সামাল দেওয়া এবং সময়মতো যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করা। যাই হোক এ রকম পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয় সেটি দেখবে আশা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য